
শেষ আপডেট: 28 August 2023 07:57
এক ফসলি জমিতে বর্ষার চাষ আর বাজি (Crackers), এর মধ্যেই আবর্তিত নীলগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের বেরিনানপুকুরিয়া-সহ প্রায় ১০টি গ্রামের অর্থনীতি (Village Economy)। প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দার শতকরা ৮৫ ভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। কর্মসংস্থানের অন্য কোনও সুযোগ না থাকায় এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাজি কারখানাগুলিই রুটিরুজির ভরসা স্থানীয় মানুষদের সিংহভাগের।
এ তো গেল বেতনের বিনিময়ে শ্রমের কথা। বিপুল মুনাফার টানে প্রতিদিনই আয়তনে বাড়ছে বাজি গ্রাম। সাকুল্যে খরচ করা ১৫ টাকায় যে তুবড়ি তৈরি হচ্ছে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। পরে খোলা বাজারে দাম বাড়ছে আরও। সরকার শেল নিষিদ্ধ করলেও, আরামসে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে এই বাজি। ১০০ থেকে ১২৫ টাকায় তৈরি এই বাজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। মারাত্মক পটাশিয়াম নাইট্রেট ছাড়া শেল তৈরি করা যায় না। সেই মারাত্মক বিস্ফোরকও অবহেলায় ব্যবহৃত হচ্ছে বাজি গ্রামগুলিতে।
এই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা বলছেন, “বাম আমলেও একইভাবে চলেছে বাজি তৈরির কাজ। শ্রমিকদের সুরক্ষা বা এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে মাথাই ঘামাননি কেউ। তৃণমূলের আমলেও সেই ধারাবাহিকতাই চলছে।” বাজার অর্থনীতিতে মুনাফা বাড়ায় আগের খড়-মাটির কাঁচা ঘর পাকা ঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে বিস্ফোরণের অভিঘাতও তীব্র হয়েছে আরও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দত্তপুকুরের এই গ্রামগুলি মোটের উপর বর্ডার এলাকা। বারাসত পুলিশ ডিস্ট্রিক্ট ও ব্যারাকপুর কমিশনারেটের সমস্ত থানার পুলিশ এই অবৈধ বাজির কারবারের কথা জানে। কিন্তু আয়ের রাস্তা খোলা রাখতেই চোখ বন্ধ করে রাখে। বড় কোনও ঘটনা ঘটলে সাময়িক নাড়াচাড়া পড়ে। আবার সবকিছু সময়ের নিয়মেই থিতিয়ে যায়। লাভের গুড় খাওয়ার অভ্যেসেই বছরের পর বছর ধরে চলে এই বাজি কারখানাগুলি।
আরও পড়ুন: দত্তপুকুর বিস্ফোরণকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৯, ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিন্নভিন্ন দেহ, বাজি না বোমা তদন্তে পুলিশ