দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: ভোটের আগে আগে মাঝে মধ্যেই এ রাজ্যের উন্নয়নের ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়ছে বেড়াল। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে, ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। দীর্ঘ দিন ধরে ললিতাষোল সংসদের ১০৩ পরিবার জব কার্ড পায়নি। ব্লক অফিসে বারবার দরবার করেও কোনও লাভ হয়নি তাঁদের। তাই, বাধ্য হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দিলেন স্থানীয় মানুষ।
সোমবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস এইভাবে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ চলে। দফতরে বাইরে থেকে তালা ঝোলানোয় উপ প্রধান মহাশীষ মাহাতো ও প্রধানকে ভিতরে আটকে থাকতে হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ললিতাষোল সংসদের ১০৩ পরিবার জব কার্ড পায়নি। সেই পরিবারের সদস্যরা গ্রাম পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে আবেদন জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তবু জবকার্ড মেলেনি তাঁদের। তবে সোমবার গ্রামবাসীদের সহ্যের সীমা পার হয়ে যায়। এদিনই ছিল জবকার্ড এন্টির শেষ দিন। খবরটা চাউর হতেই পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে জবকার্ডের জন্য বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়।
তাঁদের অভিযোগ, এদিন একজোট হয়ে তাঁরা পঞ্চায়েত প্রধানকে বিষয়টি আদৌ কি অবস্থায় রয়েছে? তা জানতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান তাঁদের বিডিওর কাছে যাওয়ার জন্য বলেন। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত অফিস থেকে জব কার্ড দেওয়া বন্ধ রয়েছে। বার বার পঞ্চায়েত অফিস থেকে এইভাবে ঘোরানোয় তিতিবিরক্ত হয়ে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা আজ দফতরে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। সেই সময় অফিসে ভেতর প্রধান ও উপ প্রধান সহ গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত কর্মী ছিলেন।
বঞ্চিত পরিবারগুলির অভিযোগ, ''একশো দিনের কাজ করতে হলে জব কার্ডের প্রয়োজন। এছাড়াও বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির সময়ও জব কার্ড প্রয়োজন। কারণ, বাড়ির জন্য যে লেবার লাগে তার টাকা একশো দিনের কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত উপভোক্তাদের দেওয়া হয়। অভিযোগ, ললিতাষোল গ্রামের বহু বাসিন্দার বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির জন্য নাম রয়েছে, কিন্তু তাঁদের কারও জব কার্ড নেই।''
ললিতাষোল গ্রামের বাসিন্দা নন্দ মাহাত, পুষ্প মাহাত, সুমিত্রা মাহাতরা বলেন, ''জব কার্ডের জন্য বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও জব কার্ড পায়নি। আজ জানতে পারি জব কার্ড এন্ট্রির শেষ দিন। প্রধানকে জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, বিডিও এর নির্দেশে জব কার্ড এর কাজ বন্ধ রয়েছে।''
মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কল্যাণী মুদির দাবি, '' আমরা সকলের জব কার্ড করে দিয়েছি। দুই একটা বাকি থাকলে থাকতে পারে। সেই গুলিও করে দেওয়া হবে।'' কিন্তু জবকার্ড বন্ধ নিয়ে প্রধানকে জিজ্ঞাস করলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।
তবে পরিস্থিত সামলাতে ঘটনাস্থলে মানিকপাড়া বিট হাউসের পুলিশকে যেতে হয়েছিল। পুলিশের মধ্যস্থতায় গ্রামবাসীরা অফিসের তালা খুলে দেন। মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মহাশীষ মাহাত বিষয়টির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন গ্রামবাসীদের।