
শেষ আপডেট: 22 September 2022 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিগেডের কথা মনে পড়ে? একুশের ভোটের আগে সংযুক্ত মোর্চার সেই জনসভায় আব্বাস সিদ্দিকি (Abbas Siddiqui) মঞ্চে ওঠার পরের ছবিটা। ভাইজান কলরবে ভেসে গিয়েছিল গড়ের মাঠ। তারপর জীবনতলা থেকে ভাঙড়, বসিরহাট থেকে হরিপাল—ফুরফুরা শরিফের এই পীরজাদা যেখানেই মিটিং করেছেন জনারণ্য দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তা ভোটে প্রতিফলিত হয়নি। দ্য ওয়ালকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সিপিএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md. Salim) মেনে নিলেন, যত ভিড় হয়েছিল তত ভোট পাননি আব্বাস। এ ব্যাপারে তৃণমূলের গোড়ার দিনের কথাও স্মরণ করাতে চেয়েছেন তিনি।
মহম্মদ সেলিমের কথায়, “যা জনসমাবেশে হয় তার সবটা ভোটে রূপান্তরিত হয় না। সমাবেশের জমায়েতকে ভোটের বাক্স পর্যন্ত নিয়ে যেতে একটা রাজনৈতিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। আইএসএফ একটি নতুন রাজনৈতিক দল। তাদের সাংগঠনিক কাঠামো পরিণত নয়। আগামী দিনে হবে।”
এ ব্যাপারে সেলিম আরও বলেন, “যত ভিড় হয়েছে তত ভোট হয়নি ঠিকই। তবে একজন তো আমাদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি নওসাদ সিদ্দিকি (Nawsad Siddiqui)। ভাঙড় থেকে। যেখানে গত ১০ বছর ধরে সন্ত্রাস চলছিল, বোমাবাজি চলছিল, গুন্ডামি চলছিল।”
এরপরেই ২০০১ সালের কথা টেনে আনেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। তিনি বলেন, “সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাগুলিতেও লোক হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন ‘হয় এবার, নয় নেভার’। কিন্তু ভোটের ফলাফল মনে আছে? সমাবেশের ভিড়কে ব্যালট বাক্সে আনতে পারেনি তৃণমূল”।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদককে প্রশ্ন করা হয়, নওসাদ সিদ্দিকি ও আব্বাস সিদ্দিকির মধ্যে রাজনৈতিক পরিপক্কতার দিক থেকে তিনি কাকে বেশি নম্বর দেবেন? জবাবে মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “নওসাদ সিদ্দিকি রাজনীতিক। আব্বাস সিদ্দিকি একজন ধর্মীয় নেতা। ঘটনাচক্রে দু’জন ভাই। আব্বাস সিদ্দিকি যখন ধর্মীয় জলসায় বক্তৃতা করেন তখন অনেক লোকজন থাকেন। যেমন বাবা রামদেব, রবিশঙ্করদের একটা ভক্তকূল রয়েছে। কেউ কেউ সেটাকে রাজনীতিতে রূপান্তরিত করে। কেউ কেউ করতে পারে না।”
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক আরও বলেছেন, “আব্বাস সিদ্দিকি আইএসএফের কেউ নন। তিনি ক্রাউড পুলার। তাঁকে আইএসএফ ব্যবহার করবে কি না সেটা তাদের দলের ব্যাপার। তিনি ব্যবহৃত হবেন কিনা সেটা তাঁর ব্যাপার। যেমন মৌলানা বরকতি ছিলেন একজন। তিনি বলেছিলেন, টাকা দিলে বিজেপির হয়ে বলতাম। তৃণমূল চেয়েছে বলে আমি তৃণমূলের হয়ে বলছি। আব্বাস সিদ্দিকি অন্তত সেটা বলেননি। তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর একটা নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে।”
অনেকের মতে, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই যে একুশের ভোটে আব্বাস সিদ্দিকি একটা ফেনোমেনন হয়ে উঠেছিলেন। তিনি আইএসএফের কোনও পদে ছিলেন কি ছিলেন না তা বিচার্য ছিল না। মানুষের এই ধারণা তৈরি হয়েছিল, আইএসএফ মানেই আব্বাস।
সেলিমের কথায় একটি বিষয় স্পষ্ট, তা হল, রামদেবরা যেমন ধর্মগুরু হিসেবে হিন্দু ভোটকে জমাট বাঁধানোর কাজে অনুঘটকের ভূমিকা নেন তেমনই সংখ্যালঘু ভোট টানার কৌশল হিসেবে আব্বাসকে সামনে রেখেছিল আইএসএফ। যদিও দেখা গিয়েছিল বিজেপিকে রুখতে সেই ভোট তৃণমূলের দিকেই গিয়েছে।
এখনও আব্বাস ও নওসাদের ক্ষেত্রকে আলাদা হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। বলা যেতে পারে, আব্বাসকে ধর্মীয় পরিসরে রেখে নওসাদকে রাজনীতর ময়দানে দেখতে চাইছেন সেলিম। তাঁর কথায়, “ধর্মীয় জলসায় কে আবেগ নিয়ে ভাল বক্তৃতা করেন? অবশ্যই আব্বাস সিদ্দিকি। বিধানসভায় কে যুক্তি, তথ্য দিয়ে বক্তব্য রাখেন? নওসাদ সিদ্দিকি। দুটো আলাদা ক্ষেত্র। দু'জনের তুলনা টানা যায় না।”