
শেষ আপডেট: 31 October 2018 13:22
দুর্গাপুজো শেষে কালীপুজো নিয়ে যখন সকলে মেতে উঠেছেন, সে সময় অল্পবয়সী ছাত্রদের নিয়ে রাজু স্যার ১৬ দিনের চেষ্টায় সাড়ে তিন হাজার প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি করেছেন এই বিচিত্র জলযান। বাঁশের খাঁচার উপর প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি এই জলযানে বড় বড় ব্যানার দিয়ে একটি ঘরও তৈরি করা হয়েছে। সে সব ব্যানারে লেখা রয়েছে সচেতনতার বার্তা। চারটে হাল থাকলেও এই জলযানে কোনও ইঞ্জিন নেই । ওই হাল দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জলযানটি। জলযানটির ভিতরে যেখানে রান্নার উপকরণ, সেখানে রাখা আছে কলসি ভরা পানীয় জলও। জলযানের সঙ্গে একটি টয়লেটেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে সোলার লাইটও।
গত সোমবার ওই জলযান নিয়ে সন্দেশখালির এক নম্বর ছোট সাহারা গ্রাম থেকে রাজু স্যারের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছে রাইহান মোল্লা, ফিরোজ শেখ, সইফুদ্দিন মোল্লা, সামসুদ্দিন মোল্লা। ডাঁশা নদীতে এক রাত কাটিয়ে মঙ্গলবার সকাল আটটা নাগাদ তারা আসেন বায়লানি খেয়া ঘাটে। নদীর যে ঘাটেই ভিড়ছে তরী, ভিড় জমছে সেখানেই। আর তখনই প্লাস্টিকের বোতলের ক্ষতিকর দিক গুলি তুলে ধরছে ছাত্ররা।
https://www.youtube.com/watch?v=kd8crEb6Gcc
এ ভাবে ভেসে বেড়ানো যে সম্পূর্ণ নিরাপদ সে কথা জানিয়ে ওই অভিযাত্রী দলের প্রধান রাজু সর্দার বলেন, ‘‘আমাদের সবার গায়ে লাইফ জ্যাকেট আছে। ঝড় বৃষ্টিতে বিপদ হলে প্রয়োজনে লাইফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় সাঁতরে পাড়ে ওঠা যাবে। এখন হাল বেয়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যাচ্ছে দলটি।" তাঁর কথায়, ‘‘সন্দেশখালির এক নম্বর ব্লকের ন্যাজাট থানার অনুমতি নিয়ে তবেই আমরা বোতলের তৈরি নৌকা সফরে বেরিয়েছি। আগামী দশ দিন এই ভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে ভেসে বেড়ানোর সময় হিঙ্গলগঞ্জ- হাসনাবাদ- সন্দেশখালি এবং মিনাখাঁর বিভিন্ন ফেরিঘাটে যাব। প্লাস্টিকের বোতলে জল খাওয়া যে বিপদজনক সে বিষয়ে প্রচারও করব।’’