দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : না জানিয়ে ভাত বেড়ে খেয়েছিল মূক ও বধির কিশোরী। তারই জেরে নিজের প্রতিবন্ধী সন্তানের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে এই ঘটনায় বিস্মিত কালিয়াচক থানার কদমতলা গ্রামের বাসিন্দারা।
অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ওই নাবালিকা বাড়ি থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে রাস্তায়। এরপরই স্থানীয় মানুষজন কোনওরকমে তাকে উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই নাবালিকার শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। বার্ন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় শাশুড়ির বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ওই কিশোরীর বৌদি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ কিশোরীর নাম সুলেখা খাতুন (১৫)। সুলেখার বাবা টুটুল শেখ দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন। তার এক দাদা বহুদিন আগেই বিয়ে করে আলাদা থাকেন। অভিযোগ, এ দিন রাতে মায়ের কাছে ভাত খেতে চেয়েছিল সুলেখা। কিন্তু তার মা তাকে ভাত দেয়নি। খিদের জ্বালায় সুলেখা নিজেই ভাত নিয়ে খেয়ে বসেছিল। আর তাতেই মা আসমিরা বিবির রাগ হয়। রান্নাঘরে মেয়ে যখন ভাত খাচ্ছিল তখনই পেছন থেকে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ওই অবস্থাতেই বাঁচার জন্য রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে ওই কিশোরী। সেই সময় এলাকায় একটি জলসা চলছিল। লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে হইচই করে ছুটে আসেন। তাঁরাই সুলেখাকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
সুলেখার বৌদি বেলি বিবি পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর শাশুড়ি আজমিরা বিবি প্রতিবন্ধী মেয়েকে একেবারেই পছন্দ করতো না। সবসময় মেয়ের উপর নির্যাতন করতো। তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালেই সুলেখা জানিয়েছে ভাত খাওয়া নিয়ে বচসার জেরে মা তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে।”
ঘটনার পর থেকেই ওই মহিলা পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে কালিয়াচক থানার পুলিশ ।