দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্ট সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনকে বলেছিল, প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর অলোক বর্মার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ আছে, সব লিখে বন্ধ খামে ভরে জমা দিন। অলোক বর্মাকে বলা হয়েছিল, অভিযোগ সম্পর্কে আপনার যা বলার আছে, তাও জমা দিন বন্ধ খামে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ করেছে, ভিজিল্যান্সের অভিযোগ আর বর্মার জবাব, দুই-ই ফাঁস হয়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এদিন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, আপনাদের আবেদনের ওপরে শুনানি হওয়াই উচিত নয়। এই বলে তিনি শুনানি পিছিয়ে দিয়েছেন।
অলোক বর্মা শীর্ষ আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি হয় গত শুক্রবার। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ভিজিল্যান্স বর্মাকে ক্লিনচিট দেয়নি। সেজন্য বিচারপতি বর্মাকে পাল্টা জবাব দিতে বলেন। গত সোমবার বর্মা কোর্টে তাঁর জবাব জমা দেন।
সোমবারই মনীশ কুমার সিনহা নামে আর এক সিবিআই অফিসার ওই সংস্থার প্রাক্তন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। গত মাসে সিবিআইয়ের অনেক অফিসারকে বদলি করা হয়েছিল। মনীশ কুমার সিনহাকে বদলি করা হয়েছিল নাগপুরে। তিনি এই বদলির বিরুদ্ধে কোর্টে আবেদন করেছিলেন আগেই। সোমবার তিনি বলেন, তাঁর কাছে এমন তথ্য আছে যা প্রকাশিত হলে সবাই চমকে উঠবে।
তাঁর অভিযোগ, আস্থানার সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই তাঁকে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে। সিবিআইয়ের নজরে ছিলেন এমন এক ব্যবসায়ী জনৈক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন যাতে তদন্ত না হয়। অজিত দোভালও আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তিনি অনেক জায়গায় তদন্তও করতে দেননি।
রাকেশ আস্থানা গুজরাত ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁকে যখন সিবিআইয়ে নিয়োগ করা হয়, তখনই আপত্তি করেছিলেন বর্মা। তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তির নামে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাঁকে সিবিআইয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা উচিত নয়। তার পরেও আস্থানাকে নিয়োগ করা হয়।
পরে বর্মা ও আস্থানা পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ আনেন। তাঁদের দুজনকেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দুজনেই আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে।