দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য শাসনের গুরুদায়িত্ব ভার কাঁধে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেছেন তিনি। রাজি নন একটুও সময় নষ্ট না করতে। তাই শপথ নেওয়ার পরে পার করেননি একটা গোটা দিনও। বৃহস্পতিবার রাতেই মন্ত্রিসভার বৈঠক করলেন মহারাষ্ট্রের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। সে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে, আগের চুক্তি মেনে, তিনটি দল থেকেই দু'জন করে বিধায়ক শপথ নিয়েছেন মন্ত্রীর পদে।
শিবসেনা প্রধানের পদ এত দিন সামলেছেন দক্ষ হাতে। রাজ্যের শাসনভার সামলাতেও যে তাঁর তৎপরতা তুঙ্গে থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। নির্বাচন পরবর্তী মহানাটকীয়তার শেষে মিলেছে এই পদ। ফলে এতটুকু আলগা দিতে রাজি নন উদ্ধব। আগের চুক্তি অনুযায়ী উদ্ধবের মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়াও শিবসেনার কাছে আছে আরও ১৫টি মন্ত্রিসভার পদ। এনসিপির কাছে আছে উপমুখ্যমন্ত্রী ও ১৩টি মন্ত্রী পদ। আর কংগ্রেসের হাতে আছে স্পিকার এবং ১৩টি মন্ত্রিসভার পদ। সব গুছিয়ে নেওয়ার পরে, নির্দেশ অনুযায়ী ৩ ডিসেম্বরের আগেই আস্থাভোট করাতে হবে উদ্ধবকে।
বৃহস্পতিবার উদ্ধব ছাড়াও শিবসেনার তরফে মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন একনাথ শিন্ডে, সুভাষ দেশাই। এনসিপির তরফে ছিলেন দুই বিধায়ক জয়ন্ত পাটিল ও ছগন ভুজওয়াল এবং কংগ্রেসের তরফে বালাসাহেব থোরট ও নীতিন রাউত। আপাতত মুখ্যমন্ত্রী ও ছ'জন মন্ত্রী নিয়ে তৈরি হওয়া এই মন্ত্রিসভার বাকি মন্ত্রীরা শপথ নেবেন ৩ ডিসেম্বর। তবে অজিত পাওয়ার কবে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তা এখনও জানা যায়নি। কিন্তু উদ্ধব বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার পরেই আস্থাভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। সেই কারণেই সাততাড়াতাড়ি রাতারাতিই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় শিবাজি পার্কে উদ্ধব ঠাকরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যান এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার, তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে ও জামাই সদানন্দ সুলে। পরে আলাদা ভাবে শপথ অনুষ্ঠানে যান শরদের ভাইপো অজিতও। গত শনিবারই তিনি শরদের বিরুদ্ধে গিয়ে বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে সমর্থন করে দেন, শপথ নেন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। পরে অবশ্য শরদের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন ডিএমকের প্রধান এমকে স্ট্যালিন, ডিএমকে নেতা টিআর বালু এবং কংগ্রেসের আহমদ পটেল ও মহাবিকাশ আগদির নেতারা। তবে রাহুল গান্ধী এ দিন আসতে পারেননি বলে চিঠি পাঠান।
শপথ নেওয়ার পরে বৃহস্পতিবারই স্ত্রী রশ্মি ও পুত্র আদিত্যর সঙ্গে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে পুজো দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।
শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের সুনাম ছিল কার্টুনিস্ট হিসাবে। শিবসেনার দলীয় মুখপত্র সামনায় তাঁর বহু কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ছেলে উদ্ধবের অবশ্য সুনাম রয়েছে ফোটোগ্রাফার হিসাবে। ‘মহারাষ্ট্র দেশ’ ও ‘পাহাবা বিত্তল’ নামে ছবির উপরে তাঁর দু’টি বই আছে।
ঠাকরে পরিবার কোনও দিনও প্রশাসনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। চিরকাল পারিবারিক বাসভবন মাতুশ্রী থেকেই শিবসৈনিকদের পরিচালনা করে এসেছেন বালাসহেব। পরে উদ্ধবও সেই ধারাই বজায় রেখে চলেছিলেন। বাবার মতো তিনিও প্রতি বছর দশেরায় শিবাজি পার্কে বক্তৃতা করে আসছেন। এই প্রথম তাঁদের পরিবারের কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ওরলি থেকে লড়ে ভোটে জেতেন উদ্ধবের ছেলে আদিত্য। আর ধারার বিপরীতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হলেন উদ্ধব।
তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তাঁর তুতো ভাই তথা মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে। এদিন শিবাজি পার্কে সত্তর হাজারের বেশি লোক হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।