
শেষ আপডেট: 22 February 2019 02:50
শ্যুটিং চলছে।[/caption]
ওই দিনই বিকেলে রুদ্রপুরে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু জঙ্গি হামলার খবর আসতেই তিনি তা বাতিল করে দেন। রামনগর গেস্টহাউসে ফিরে আসার আগেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিতকুমার দোভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের থেকে সেখানকার খবর নেন। সরকারি সূত্রের দাবি, এই সময়টা তিন জনের সঙ্গে লাগাতার ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সময়ের মধ্যে নাকি প্রধানমন্ত্রী কোনও খাবারও মুখে তোলেননি। পাশাপাশি হামলা সম্পর্কে তাঁকে দেরিতে জানানোয় ক্রুদ্ধ হন তিনি। খারাপ আবহাওয়ার জন্য চপার ওড়ানো না গেলেও, খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়েই রামনগর থেকে বরেলী যান প্রধানমন্ত্রী।গভীর রাতে দিল্লি পৌঁছন তিনি।
ঘটনার কয়েক দিন পরে, বৃহস্পতিবার সকালে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা অভিযোগ করেন, জঙ্গি হামলার ঘটনা দুপুর তিনটের পরেই ঘটে। তা সত্ত্বেও সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা পর্যন্ত ডিসকভারি চ্যানেলের সঙ্গে 'প্রোমোশনাল ফিল্ম' শ্যুট করছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর প্রশ্ন, "পুলওয়ামায় আমাদের জওয়ানদের শহিদ হওয়ার ঘটনায় পুরো দেশ যখন শোক পালন করছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সিনেমার শ্যুটিং করতে ব্যস্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সারা বিশ্বে এই রকম প্রধানমন্ত্রী আর আছেন কি?”
ডিসকভারি চ্যানেলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত থাকার দাবিও অস্বীকার করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি বলেন, “পুলওয়ামা হামলা সম্পর্কে কংগ্রেস নিজে জানত কি? আমরা না হয় জানতাম না”।
১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জাতীয় সড়কের ওপর বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে সিআরপিএফ এর কনভয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়, শহিদ হন ৪৯ জন জওয়ান। প্রধানমন্ত্রীকে কেন দেরিতে সেই খবর দেওয়া হল, তা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।