করোনা পরবর্তীতে দেশের অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন থেকে সুপার সাইক্লোন উমফান, দ্বিতীয় মোদী সরকারের বর্ষপূর্তিতে কী কী বললেন প্রধানমন্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় মোদী সরকারের বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে এই সময়ের মধ্যে ভারতের উন্নতিতে তাঁর সরকারের কাজ এবং তার সঙ্গে করোনা সংক্রমণের জেরে দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিজের বক্
শেষ আপডেট: 30 May 2020 05:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় মোদী সরকারের বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে এই সময়ের মধ্যে ভারতের উন্নতিতে তাঁর সরকারের কাজ এবং তার সঙ্গে করোনা সংক্রমণের জেরে দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। সেইসঙ্গে সুপার সাইক্লোন উমফানও জায়গা করে নিয়েছে এই চিঠিতে। করোনার পরবর্তীতে ভারতের অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন কী ভাবে করা সম্ভব সে কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির উদ্দেশে চিঠিতে মোদী বলেন, যখন ভারতে সংক্রমণ ছড়ায় অনেকে ভেবেছিল আমরা বিশ্বের কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠব। কিন্তু আমরা সবাইকে দেখিয়েছি এক যোগে লড়াই করলে কী ভাবে কোনও মহামারীকে আটকে দেওয়া সম্ভব। এটাই গণতন্ত্রের শক্তি। এই সংক্রমণের ফলে ভারতের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে ফের দেশকে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। আমি নিশ্চিত দেশের অর্থনীতি ফের একবার ঘুরে দাঁড়াবে। সেইসঙ্গে গোটা বিশ্বকে পথ দেখাব আমরা।
এই চিঠিতে প্রধান যে ১০টি বিষয়ের কথা মোদী জানিয়েছেন সেগুলি হল-
- ভারতে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর পরে অনেকে ভেবেছিল আমরা বিশ্বের কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াব। কিন্তু আজ আমাদের একতা ও প্রতিরোধ গোটা বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে। আপনারা সবাই এটা প্রমাণ করেছেন যে ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ শক্তি বিশ্বের বড় ও শক্তিশালী দেশগুলির থেকেও বেশি।
- এই সমস্যার মধ্যে একথা দাবি করা যাবে না, যে কেউ কষ্টের মধ্যে নেই। আমাদের শ্রমিক, ছোট পেশায় যুক্ত ব্যক্তি, হকারদের এই সময় খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে সমস্যা আমরা আজ সহ্য করছি, তা যেন বিপর্যয়ে পরিণত না হয়। এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার পথ আমাদের খুঁজতে হবে।
- কয়েক দিন আগে সুপার সাইক্লোন উমফান পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এখানেও এই রাজ্যের মানুষরা প্রতিরোধ গড়েছেন। তাঁরা সাহস দেখিয়েছেন। এই সাহসকে আমি প্রণাম করি।
- এই সময়ে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কী ভাবে ভারত- সহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। ভারত যেভাবে এক হয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, সেভাবেই অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনেও গোটা বিশ্বকে ভারত অবাক করে দেবে। আমি বিশ্বাস করি দেশের ১৩০ কোটি মানুষ গোটা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করবে।
- ভারতের মাটির সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষরা কঠোর পরিশ্রম ও ঘাম ঝড়িয়ে উৎপাদন করছেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বা বিদেশ থেকে আমদানির উপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে না।
- গত বছর এই দিনে ভারতীয় গণতন্ত্রের এক স্বর্ণালি অধ্যায় শুরু হয়েছিল। বহু দশক পরে ভারতবাসী কোনও সরকারকে দ্বিতীয় বারের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আপনাদের এই সদিচ্ছা আমাদের উৎসাহিত করে। আপনারা গোটা দুনিয়াকে দেখিয়েছেন, গণতন্ত্রের শক্তি কী।
- ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতের উন্নতি হয়েছে। গরিবের উন্নতি হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। সবার মাথার উপর যাতে ছাদ থাকে সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছি আমরা।
- ভারত নিজের ক্ষমতা গোটা বিশ্বকে দেখিয়েছে। তার প্রধান দুটি উদাহরণ হল, ২০১৬ সালে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও ২০১৯ সালে বালাকোটে বায়ুসেনার হামলা। এছাড়াও দেশের কৃষকদের উন্নতির জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
- জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়া এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। রাম মন্দির সমস্যার সমাধান হয়েছে। তিন তালাকের মতো বর্বর প্রথাকে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। নাগরিকত্ব আইন দেশের একতা ও সার্ভভৌমত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এই সময়ের মধ্যে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা দেশের উন্নতিতে সাহায্য করেছে। ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর মধ্যে এক সংযোগ গড়ে তোলার জন্য চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ পদ আনা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই মিশন গগনযানের জন্য তৈরি হচ্ছে ভারত।