দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের এনকাউন্টার জম্মু-কাশ্মীরে। নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে খতম হয়েছে চারজন জঙ্গি। তার মধ্যে আল-বদর জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতা শকুর আহমেদও রয়েছে। স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসারের চাকরি ছেড়ে জঙ্গিদলে নাম লেখায় এই শকুর। এই এনকাউন্টারে এক জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় এই এনকাউন্টার হয়েছে। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই এনকাউন্টারে চার জঙ্গি খতম হয়েছে। তার মধ্যে দু’জন জঙ্গিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। একজন আল বদর জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা শকুর আহমেদ। অন্য আর এক জঙ্গির নাম সুহেল ভাট। খানমোহ গ্রামের প্রধানকে অপহরণ করে খুন করার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল এই সুহেল ভাটের। আরও দুই জঙ্গিকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোপিয়ান পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, কিলুরা এলাকায় চার থেকে পাঁচজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। তারপরেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে ওই এলাকায় টহলদারী শুরু করে ভারতীয় সেনা।নিরাপত্তারক্ষীদের দেখে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। তারপরেই শুরু হয় এনকাউন্টার। সেখানে আরও নিরাপত্তারক্ষীদের পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
সোপিয়ান জেলার কিলুরা এলাকায় লুকিয়ে থাকা আর এক জঙ্গিকে আটক করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাকে জেরা করে ওই এলাকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খোঁজ করা হচ্ছে বলে খবর। জঙ্গিদের কাছ থেকে অনেক অস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।
ভারতীয় সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সোপিয়ান জেলার কিলুরা এলাকায় বেশ কয়েক ঘণ্টা জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই হয় সেনার। এই লড়াইয়ে চারজন জঙ্গি নিহত হয়েছে ও এক জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে। দুটি একে ৪৭ রাইফেল, তিনটি পিস্তল ও অনেক গোলা-বারুদ উদ্ধার হয়েছে। এখনও তল্লাশি অভিয়ান চলছে।”
কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমার জানিয়েছেন, “এই এনকাউন্টারে সেনার বড় সাফল্য হল আল বদর গ্রুপের প্রধানকে খতম করা। একসময় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসার ছিল এই শকুর আহমেদ। তারপরে কনস্টেবলে পদোন্নতি হয় তার। কিন্তু পুলিশের চাকরি ছেড়ে একে ৪৭ নিয়ে পালিয়ে যায় শকুর। জঙ্গি দলে নাম লেখায় সে। তারপরে আল বদর জঙ্গিদলের প্রতিষ্ঠা করে শকুর। ১০ যুবককে ওই জঙ্গিদলে নাম লেখায় সে। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে খতম করেছে নিরাপত্তারক্ষীরা।”
বিজয় কুমার আরও জানিয়েছেন, “এই এনকাউন্টারে কোনও নিরাপত্তারক্ষী হতাহত হননি। নভেম্বর মাস থেকে টহলদারী বাড়ানো হয়েছে দক্ষিণ কাশ্মীরে। সেখানে জঙ্গিদের টার্গেট করা হচ্ছে। বড় সাফল্য পাচ্ছে সেনা।”