দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু তার জন্য তৈরি রয়েছে কর্নাটক সরকার। বেড, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা তৈরি রাখা হয়েছে। তাই বাসিন্দাদের ভয় পাওয়ার কোনও দরকার নেই। সোমবার বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা। তাঁর বক্তব্য, ভাইরাসের সঙ্গেই থাকতে হবে আমাদের। ভয় পাবেন না।
সোমবার বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের উদ্দেশে ইয়েদুরাপ্পা বলেন, “আমি বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের বলতে চাই যে আমরা তৈরি আছি। ইতিমধ্যেই ৪৫০ অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি রেখেছি আমরা। তাই ভয় পাওয়ার কোনও দরকার নেই। এই ভাইরাসের সঙ্গেই আমাদের থাকতে হবে। তাই প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। সাবধানে থাকুন। তবেই আমরা এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। হাসপাতালে বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ হাজারের বেশি বেড যুক্ত একটি কোভিড কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।”
গত কয়েক দিনে হঠাৎ করেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে বেঙ্গালুরুতে। এই মুহূর্তে কর্নাটকের রাজধানীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩৪৫। তার মধ্যে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৭২৫০। এখনও পর্যন্ত ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এই শহরে।
সংক্রমণ মোকাবিলার জন্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, জুলাই মাস থেকে প্রতি রবিবার কর্নাটকে টোটাল লকডাউন পালন করা হবে। তাছাড়া বেঙ্গালুরুতে প্রতি সপ্তাহে শনিবার রাত ৮টা থেকে সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত অর্থাৎ ৩৩ ঘণ্টা একটানা লকডাউন থাকবে।
এছাড়া নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়িয়েছে কর্নাটক সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা হচ্ছে। শনিবার সরকারের তরফে বলা হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ৩ হাজারের বেশি বেড করোনা আক্রান্তদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। বেঙ্গালুরুর ঠিক বাইরে ১০ হাজার বেডের একটি কোভিড কেয়ার সেন্টারও তৈরি হয়েছে।
কর্নাটক সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, “বেঙ্গালুরুতে ৭২টি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৩৩৩১টি বেড তৈরি রাখা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ৭৩৩টি বেড ভর্তি রয়েছে। এখনও ২৫৯৮টি বেড খালি রয়েছে। বেঙ্গালুরুর বাইরে যে সেন্টার তৈরি হয়েছে সেখানে অন্তত ১৫০ চিকিৎসক কাজ করবেন।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা আগেই বলেছেন, করোনার সঙ্গেই বাঁচতে হবে আমাদের। অযথা ভয় না পাওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা। সেই একই কথা এবার শোনা গেল ইয়েদুরাপ্পার মুখে।