দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাতে মৃত্যু হয়েছে বিহারের এক যুবকের। বয়স ৩৮ বছর। আর এই মৃত্যুর পর উৎকণ্ঠা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এতদিন পর্যন্ত অনেকেই বলছিলেন, প্রবীণ নাগরিকদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বলেই করোনা আক্রান্ত হয়ে তাঁদের মৃত্যু হচ্ছেকিন্তু পটনার যুবকের মৃত্যু সেই ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
সম্প্রতি কাতার থেকে মুঙ্গেরে ফিরেছিলেন এই যুবক। বাড়িতে ফেরার পরই জ্বর হয় তাঁর। ভর্তি করা হয় পটনার অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল সায়েন্সেসে। লালারস পরীক্ষার পর দেখা যায় করোনা তথা কোভিড১৯ পজিটিভ। এদিন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ভারতে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিনই মুম্বইয়ে মৃত্যু হয়েছে সত্তরোর্ধ্ব এক প্রবীণের। এখনও পর্যন্ত ভারতে যতজনের প্রাণ গিয়েছে (এক ইতালীয় পর্যটক সহ), তার মধ্যে বিহারের এই যুবকই সর্ব কনিষ্ঠ। দেশজোড়া জনতা কার্ফুর সকালেই জোড়া মৃত্যুর খবরে আশঙ্কা আরও বেড়ে গিয়েছে করোনা প্রকোপ নিয়ে।
বিহারের স্বাস্থ্য সচিব সঞ্জয় কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এর আগে বিহারের একজনের শরীরেও করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি। এটাই প্রথম কেস। মৃত্যু শুরু হয়েছিল কর্ণাটক দিয়ে। তারপর এক এক করে দিল্লি, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র হয়ে এবার বিহার।
পরিস্থিতি যে ভয়াবহ তা গোপন করছে না কেউই। বরং নিজেকে অন্যদের থেকে দূরে সরিয়ে রেখে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমস্ত প্যাসেঞ্জার ও মেল ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৭। এর মধ্যে কলকাতা ও পুণের দুই ব্যক্তির পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে যাঁদের বিদেশ যাওয়া বা বিদেশ থেকে ফেরার অতীত নেই। একাধিক রাজ্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। সব মিলিয়ে করোনা ত্রাসে বিপর্যস্ত জনজীবন। আতঙ্ক দেশজুড়ে।