দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এই সন্দেহে আত্মহত্যা করলেন এক প্রৌঢ়। সেইসঙ্গে আত্মহত্যার আগে চিঠি লিখে পরিবারের সবাইকে নির্দেশ দিয়ে গেলেন, তাঁরা যেন করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করিয়ে নেন।
বুধবার এই ঘটনা ঘটেছে কর্নাটকের উড়ুপিতে। জানা গিয়েছে, ৫৬ বছরের এক প্রৌঢ় বাড়ির বাইরে এক গাছ থেকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে আছে। তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ এসে দেখে প্রৌঢ়ের পকেটে একটা চিঠি রয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে যেন কোভিড ১৯ পরীক্ষে করিয়ে নেন।
ওই প্রৌঢ় কী ভাবে নিজেকে করোনা আক্রান্ত বলছেন সেটাই বুঝতে পারছে না পুলিশ। কারণ, এখনও অবধি কর্নাটকে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, কিংবা যাঁদের আইসোলেশন সেন্টারে অথবা হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, তাঁদের তালিকায় এই প্রৌঢ় ছিলেন না। এমনকি তাঁর করোনা আক্রান্ত হওয়ার কোনও উপসর্গও ছিল না।
প্রৌঢ়ের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য তা পাঠিয়েছে পুলিশ। তাঁর দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেরও একবার পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে। আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীর, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপত্যকায় এটা প্রথম মৃত্যু হলেও করোনার কোপে এই নিয়ে গুজরাতে বলি হয়েছেন ৩ জন, আর মহারাষ্ট্রে ৪ জন। সব মিলিয়ে সারা দেশে কোভিড ১৯ সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা এখন ১৬। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই বিদেশি নাগরিকের। তাঁদের মধ্যে একজন ইতালীয় পর্যটক, যাঁর মৃত্যু হয়েছিল জয়পুরে। দ্বিতীয়জন ফিলিপিন্সের বাসিন্দা, তাঁর মৃত্যু হয়েছে মুম্বইতে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকে রিপোর্ট অনুসারে দেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬৪৯। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৪৭ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়াও সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪২ জন।