দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই বিশ্বের প্রথম ১০ করোনা আক্রান্ত দেশের মধ্যে ৯ নম্বর থেকে এক ধাপ এগিয়ে ৮ নম্বরে উঠে এসেছিল ভারত। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই আরও এক ধাপ এগিয়ে ৭-এ উঠে এল এই দেশ। আক্রান্তের সংখ্যায় ফ্রান্সকে টপকে গিয়েছে ভারত।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, রবিবার রাত পর্যন্ত ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,৮৮,৮৮৩। এই সংখ্যার সঙ্গেই ফ্রান্সকে টপকে যায় ভারত। ইউরোপের এই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৮৮,৭৫২। রবিবার সকাল হতে হতে এই ব্যবধান হয়তো আরও বাড়বে।
বিশ্বে এখন করোনা আক্রান্ত ৬২ লক্ষের বেশি মানুষ। কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩,৭২,১৩৭ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২৭,৭০,৫২৯ জন। আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার এই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। ৪ লাখের বেশি আক্রান্ত নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া।
ভারতে গত কয়েক দিন ধরে ক্রমশ বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই তার আগের দিনের রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে। রবিবার সকালের বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩৮০ জন। এই প্রথম দেশে আক্রান্তের সংখ্যা এক দিনে ৮ হাজারের বেশি হয়েছে।
ভারতে গত তিন দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজারের বেশি বেড়েছে। আর ঠিক এই সময়েই লকডাউনের পঞ্চম পর্যায় শুরু হয়েছে, যাকে সরকার আনলক ফেজ ১ বলছে। ধীরে ধীরে অনেক পরিষেবায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সোমবার থেকেই চালু হয়েছে ট্রেন পরিষেবা। আজ থেকে ২০০ ট্রেন চালাবে রেলমন্ত্রক। এর জেরে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এই পরিস্থিতিতে পরিষেবা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্যবিধি কড়া করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, পরিষেবা ধীরে ধীরে শুরু করতেই হবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, সবকিছু অবাধে খুলে দেওয়া হবে। কন্টেইনমেন্ট এলাকা ও রেড জোনে কড়া নজর রাখতে হবে। যেখানে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে সেখানে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের মধ্যে টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। এইসঙ্গে দেশের মানুষকেও সচেতন হতে হবে। তবেই এই সংক্রমণের গতি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।