দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদের তরুণী পশু চিকিৎসকের গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল দেশ। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, প্রতিবাদ আন্দোলনের ঢেউ দেখা গিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বাড়ছে জনরোষ। এই বিক্ষোভের সামনে পড়ে অবশেষে তিন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে তেলঙ্গানা পুলিশ।
সাসপেন্ড হওয়া তিন পুলিশকর্মী হলেন সাব ইনস্পেক্টর এম রবি কুমার, হেড কনস্টেবল পি বেণুগোপাল রেড্ডি ও এ সত্যনারায়ন গৌড়। এই প্রসঙ্গে সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার বলেন, "তদন্তে দেখা গিয়েছে এই ঘটনায় গাফিলতি ছিল ওই পুলিশকর্মীদের। তাই তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।"
পুলিশের বিরুদ্ধে আগের দিনই অভিযোগ করেছিলেন নির্যাতিতা তরুণীর বাবা। তিনি বলেন, মেয়ের খোঁজ না পাওয়ায় পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি পুলিশ। অনেক থানায় ঘুরতে হয় তাঁদের। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। নির্যাতিতার বাবার এই অভিযোগের পরেই তদন্তে তিন পুলিশকর্মীর গাফিলতি ধরা পড়ায় তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়।
এদিকে রবিবারও বিক্ষোভ চলছে গোটা তেলঙ্গনা জুড়ে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে প্রথমে শাদনগর থানায় রাখা হয়েছিল। থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন শয়ে শয়ে মানুষ। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠি চালায় পুলিশ। এই ঘটনার পরে অভিযুক্তদের শাদনগর থানা থেকে সরিয়ে হায়দরাবাদ জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শাদনগর নগর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।
শনিবার তেলঙ্গনার চিলকুরের বালাজি মন্দির কর্তৃপক্ষ ২০ মিনিট মন্দিরের প্রবেশপথ বন্ধ রাখেন। মন্দিরের বাইরেই পুজো করেন ভক্তরা। নির্যাতিতা তরুণীর বাড়ি যায় জাতীয় মহিলা কমিশনের একটি দল। কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা দোষীদের ফাঁসির সাজার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তেলঙ্গনার রাজ্যপাল তামিলিসাই সৌন্দররাজন এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারকে সাংবধানিক ও প্রশাসনিকভাবে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফেও।