দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবারের বুলেটিনে জানানো হয়েছিল, শারীরিক অবস্থা একই রকম রয়েছে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। কিন্তু সোমবারের বুলেটিন জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে তাঁর।
সেপটিক শকে রয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ফুসফুসের সংক্রমণ আরও বেড়েছে প্রণববাবুর। এই মুহূর্তে এক বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে তাঁর।
সোমবার দিল্লির সেনা হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল থেকে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণের দরুণ তাঁর সেপটিক শক হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়েছে এবং রক্তচাপও খুব কম। এই মুহূর্তে একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর চিকিৎসা করছেন। এখনও গভীর কোমা ও ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন প্রণববাবু।
এর আগে গত বুধবারের বুলেটিনে সেনা হাসপাতাল জানায়, প্রণববাবুর রেনাল প্যারামিটারে কিছু বদল হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই রেনাল প্যারামিটার বলতে বোঝায়, শরীরে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ইউরিক অ্যাসিড প্রভৃতির মাত্রা। এইসব উপাদানের মাত্রায় বদল হলে তার জেরে শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই সমস্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির। কিন্তু তারপরেই এবার তাঁর ফুসফুসের সংক্রমণ আরও বাড়ল।
গত ৯ অগস্ট রাতে নয়াদিল্লির রাজাজি মার্গের বাড়িতে বাথরুমে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান প্রণব মুখোপাধ্যায়। মস্তিষ্কে আঘাত নিয়ে পর দিন, ১০ অগস্ট সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কোভিড রিপোর্টও পজিটিভ আসে। মস্তিষ্কে যে রক্ত জমাট বেঁধেছিল তা বের করতে অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরে আর জ্ঞান ফেরেনি তাঁর। এর পরে গভীর কোমায় চলে যান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।
গত রবিবার সকালে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় টুইট করে আশার খবর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আগের দিন হাসপাতালে গিয়ে তিনি তাঁর বাবাকে দেখে এসেছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ভগবানের কৃপা এবং সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছায় প্রণব মুখোপাধ্যায় দ্রুত বাড়ি ফিরে আসবেন।
প্রণববাবু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর বাড়ি বীরভূমের কীর্ণাহারে শুরু হয়েছে যজ্ঞ ও পুজো। তিনি সুস্থ না হয়ে ওঠা পর্যন্ত এই প্রার্থনা চলবে বলেই জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও গ্রামের মানুষ। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করেছেন অনেকেই।