দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্রযান ২ ব্যর্থ হয়েছে কিনা, চাঁদের বুকে ল্যান্ডার বিক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে কিনা এসব নিয়ে যখন বিস্তর আলোচনা চলছিল, তখন চেন্নাইয়ের ইঞ্জিনিয়ার শন্মুগ সুব্রহ্মণ্যন প্রথম ল্যান্ডার বিক্রমের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিলেন। নিজের সেই খোঁজের কথা তিনি জানিয়েছিলেন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোকে। নাসার তরফেও তাঁর প্রশংসা করা হয়েছিল। এবার নাকি চাঁদের উপর রোভার প্রজ্ঞানকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এখনও নাকি অক্ষত রয়েছে প্রজ্ঞান। শন্মুগের দাবিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
শন্মুগ জানিয়েছেন, ল্যান্ডার বিক্রমের খোঁজ পাওয়ার পর থেকে তিনি থেমে থাকেননি। ক্রমাগত খোঁজ চালিয়ে গিয়েছেন। অবশেষে নাকি প্রজ্ঞানের খোঁজ পেয়েছেন তিনি। এর আগে ল্যান্ডার বিক্রমের খোঁজ পাওয়া নিয়ে শন্মুগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তাঁকে নাসারত তরফে ইমেল করে জানানো হয়, তাঁর দেখানো জায়গার কাছেই বিক্রমের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেয়েছে নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অর্বিটার ক্যামেরা।
নতুন করে টুইট করে শন্মুগ জানিয়েছেন, “চন্দ্রযান ২-এর রোভার প্রজ্ঞান চন্দ্রপৃষ্টে অক্ষত রয়েছে। বিক্রমের ধ্বংসাবশেষ থেকে বেরিয়ে কয়েক মিটার দূরেই সেটি রয়েছে। খারাপ অবতরণের জন্য ভেঙে পড়েছিল বিক্রম। কিন্তু তাতে প্রজ্ঞানের কোনও ক্ষতি হয়নি।” নিজের দাবির সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠে বিক্রম ও প্রজ্ঞানের অবস্থানের ছবিও দিয়েছেন তিনি।
https://twitter.com/Ramanean/status/1289405848821800965?s=19
ইসরোর প্রধান কে শিবন জানিয়েছেন, “আমরা শন্মুগের কাছ থেকে খবর পেয়েছি। আমাদের বিশেষজ্ঞরা সবটা খতিয়ে দেখছেন।”
শন্মুগ আরও জানিয়েছেন, “দেখে মনে হচ্ছে ল্যান্ডার বিক্রমের দিকে ক্রমাগত সঙ্কেত পাঠানো হচ্ছিল। আর একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে যে ল্যান্ডার সেই সঙ্কেত গ্রহণ করে তা রোভারে পাঠিয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্কেতের উত্তর পৃথিবীতে জানানোর ক্ষমতা নেই ল্যান্ডারের। তাই কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।”
কিন্তু বিক্রম ধ্বংস হয়ে গেলে প্রজ্ঞান কী ভাবে অক্ষত থাকল। তারও একটা জবাব দিয়েছে শন্মুগ। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানিয়েছেন, “প্রজ্ঞানের অক্ষত থাকার অনেক কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে সবথেকে জোরালো কারণ হল, যেহেতু ল্যান্ডারের মধ্যে খুবই যত্নে রোভার রাখা হয়েছিল, তাই হতে পারে ল্যান্ডিংয়ের সময় চন্দ্রপৃষ্ঠে ধাক্কা খেয়ে বিক্রম ধ্বংস হয়ে গেলেও প্রজ্ঞান অক্ষত ছিল। কিন্তু বিক্রম ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কোনও সঙ্কেত পাইনি আমরা।”