দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন দিন করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অন্ধ্রপ্রদেশে ১০ দিনের সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এই লকডাউনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মদের দোকান। আর তাই মদ না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্যানিটাইজার খেয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলায় কুরিচেদু মণ্ডলে এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, এখানকার অনেক বাসিন্দা মদ খেতে না পেয়ে হতাশ হয়ে স্যানিটাইজার খেয়ে ফেলে। এরপরেই বৃহস্পতিবার তিনজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার আরও ছ’জন মারা যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ১০ দিন ধরে লকডাউনের কারণে ওই এলাকায় সব মদের দোকান বন্ধ ছিল। তার ফলে সমস্যায় পড়ে নিত্যদিনের মদ খাওয়া ব্যক্তিরা। দিনের পর দিন মদ খেতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়ে তারা। মানসিক চাপ বাড়তে থাকে তাদের। তার ফলে হাত ধোয়ার জন্য বিক্রি হওয়া স্যানিটাইজার কিনে তারা খেয়ে ফেলে।
জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে তিনজন ভিখারিও রয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন স্থানীয় একটা মন্দিরে ভিক্ষা করত। তারা বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে পেটে ব্যথার কথা বলতে থাকে। অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় তাদের। পেটে জ্বালাপোড়া করতে থাকায় সেখানেই একজনের মৃত্যু হয়। অন্যজনকে দারসির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই ভিখারির মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৯ বছরের অন্য আর এক ব্যক্তি চোলাই মদের সঙ্গে স্যানিটাইজার মিশিয়ে খেয়ে ফেলে। তার ফলে বাড়িতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় সে। তারপরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
শুক্রবার ভোরে আরও ছ’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছ’জনেরই মৃত্যু হয়। পুলিশ খোঁজ করছে ওই একই কাণ্ডে হাসপাতালে অন্য কাউকে নিয়ে আসা হয়েছে কিনা। তাহলে আরও কেউ স্যানিটাইজার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে কিনা জানা যাবে।
পুলিশের তরফে মৃতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হল এ শ্রীনু (২৫), বি তিরুপাতাইয়া (৩৭), জি রামিরেড্ডি (৬০), কাদিয়াম রামনাইয়া (২৯), রামানাইয়া (৬৫), রাজিরেড্ডি (৬৫), বাবু (৪০), চার্লস (৪৫) ও অগাস্টিন (৪৭)।
এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওই এলাকার পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ কৌশল। তিনি জানিয়েছেন, ওই এলাকার সব দোকান থেকে স্যানিটাইজার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেগুলিকে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই স্যানিটাইজারে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধুমাত্র স্যানিটাইজার তারা খেয়েছিল, না তার সঙ্গে আরও কিছু তারা মিশিয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।