কলকাতার আশেপাশে সাঙ্কেতিক রেডিও বার্তা, জঙ্গি নাশকতার আশঙ্কা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা আদানপ্রদানের জন্য জঙ্গিরা মূলত ব্যবহার করত মোবাইল ফোন কিংবা ই-মেল পরিষেবা। কিন্তু সহজেই ধরা পড়ে যাচ্ছিল এই আদানপ্রদান। আর তাই কি এ বার নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের জন্য রেডিও সিগন্যালিং পরিষেব
শেষ আপডেট: 22 November 2018 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা আদানপ্রদানের জন্য জঙ্গিরা মূলত ব্যবহার করত মোবাইল ফোন কিংবা ই-মেল পরিষেবা। কিন্তু সহজেই ধরা পড়ে যাচ্ছিল এই আদানপ্রদান। আর তাই কি এ বার নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের জন্য রেডিও সিগন্যালিং পরিষেবা গ্রহণ করেছে জঙ্গিরা। অন্তত এমনটাই ধরা পড়েছে এ রাজ্যে।
মাসখানেক আগে নাগেরবাজারে বোমা বিস্ফোরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, এই নাশকতার পেছনে জঙ্গিদের হাতও থাকতে পারে। তারপর থেকেই সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কোনও রকম জঙ্গি কার্যকলাপ হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য রেডিও অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই ধরা পড়ল এই ঘটনা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশ হয়ে নাকি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। এর মধ্যেই নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এক অদ্ভুত রেডিও সিগন্যাল। কলকাতার আশেপাশেই কারা সাংকেতিক ভাষায় কথোপকথন চালাচ্ছে। এমনই সিগন্যাল ধরা পড়েছে সপ্তাহ কয়েক আগে।
দিওয়ালির ঠিক আগেই এই বিষয়টা লক্ষ্য করেন কলকাতার হ্যাম রেডিও অপারেটররা। প্রথম ওই সিগন্যাল আসে সোদপুর এলাকা থেকে। এ ছাড়াও হুগলির চুঁচুড়া থেকেও এসেছে এমন সিগন্যাল। শহরের একেবারে কাছে শিয়ালদহ স্টেশনের আশেপাশে থেকেও এসেছে একই সিগন্যাল। কলকাতা থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটারের মধ্যেই সেই সিগন্যাল ধরা পড়েছে বলে রিপোর্ট।
সন্দেহজনক সিগন্যাল ধরা পড়তেই বিষয়টি জানানো হয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে। বেঙ্গল অ্যামেচার রেডিও ক্লাবের সেক্রেটারি অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিগন্যালে ধরা পড়ছে। তাতে কোডে কথা বলা হচ্ছে। মাঝরাতেই ধরা পড়ে ওই কথাবার্তা। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে কোনও রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের পরিচয়ও জানতে চাওয়া হয়েছিল। কোনও উত্তর আসেনি। ভাষাটাও সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তবে আফগানিস্তানের ভাষার সঙ্গে মিল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককেও চিঠি লিখে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। ওই অপারেটরদের বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এইভাবে যে জঙ্গি কার্যকলাপ চলতে পারে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দা অফিসারেরা। এর আগে ২০১৬ তে এই ধরনের সিগন্যাল নজরে এসেছিল। বসিরহাট ও সুন্দরবন অঞ্চলে বাংলা ও উর্দু ভাষায় কথা বলতেন কেউ। কলকাতায় যেন কোনও রকমের নাশকতামূলক কাজ না হয়, তার জন্য তৎপর থাকতে বলা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।