দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যরাতের বদলি নিয়ে সিবিআইয়ের সর্বোচ্চ কর্তা ছুটেছিলেন দেশের শীর্ষ আদালতে। রুজু করেছিলেন মামলা। সেই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়ে দিল, বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো সিবিআই কর্তা অলোক বর্মার বিরুদ্ধে দু’সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনকে। পরবর্তী শুনানি হবে ১২ নভেম্বর। তদন্তে নজরদারি করবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ কে পট্টনায়েক।
প্রধান বিচারপতি শুক্রবারের শুনানির পর জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না অন্তর্বর্তী সিবিআই ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও। অলোক বর্মাকেও এই সময়ের মধ্যে রুটিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এ দিন প্রধান বিচারপতি প্রথমে বলেন, দশ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী আরেকটু সময় চান আদালতের কাছে। এরপর প্রধান বিচারপতি তা বাড়িয়ে দু’সপ্তাহ করেন।
অলোক বর্মাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর পরের দিন সকালেই একে একে ১২ জন অফিসারকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল অন্যত্র। কাউকে পোর্ট ব্লেয়ার, কাউকে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর। যাঁরা বর্মা ঘনিষ্ঠ অফিসার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সিবিআইয়ের অন্দরে। এমনকী রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে যে অফিসারকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন অলোক বর্মা, সেই এ কে বাসসিকেও ‘জনস্বার্থে’ অন্যত্র ডিউটিতে যোগ দেওয়ার অর্ডার ধরিয়ে দেয় সিভিসি। বদলে আস্থানার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় আইপিএস তরুণ গৌবাকে। এ দিনের শুনানির পর প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সেই বদলিতেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুরনো দায়িত্বেই বহাল থাকবেন তাঁরা।
দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার দুই কর্তার লড়াই কার্যত হাটের মাঝে নেমে আসে। আসরে নামতে হয় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে যুযুধান দুই কর্তা ডিরেক্টর অলোক বর্মা এবং স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তিকালীন সিবিআই ডিরেক্টরের চার্জ দেওয়া হয় তেলেগু আইপিএস এম নাগেশ্বর রাও-কে। বুধবার সক্কাল সক্কাল সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন আইপিএস অলোক বর্মা। তাঁর দাবি, এই বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো এবং নতুন ডিরেক্টর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। সেই মামলার শুনানিতেই এ দিন দেশের শীর্ষ আদালত এই রায় দেয়।
প্রসঙ্গত, দুই কর্তাকে সরিয়ে নতুন ডিরেক্টর নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক চাপান উতোর তুঙ্গে উঠেছে গোটা দেশে। মধ্য রাতের বদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। রাফায়েল দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই প্রধানমন্ত্রী অলোক বর্মাকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন রাহুল। এমনিতে নিয়মানুযায়ী, সিবিআই ডিরেক্টর ঠিক হয় দেশের প্রধান বিচারপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতার আলোচনার ভিত্তিতে। কিন্তু কংগ্রেসের দাবি, একক বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে আলোচনাই হয়নি। একা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদী। কটাক্ষের সুরে রাহুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেকে বাঁচাতে রাত্রি দুটোর সময় সিবিআইয়ের ডিরেক্টর বদল করেছেন। নাহলে তো সকাল ৯টা, ১০টাতেও করতে পারতেন।”