দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর রাতের বেলা ড্রোনের সাহায্যে অস্ত্রশস্ত্র ফেলছে পাকিস্তান। জঙ্গিদের জন্য পাঠানো হচ্ছে একে-৪৭ রাইফেল। মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এমনটাই জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, গতকাল রাতে আখনুর গ্রামের কাছে অ্যাসাল্ট রাইফেল এবং পিস্তল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সন্দেহ এই সবের পিছনে রয়েছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ।
সূত্রের খবর, গতকাল গভীর রাতে পাকিস্তানের দিক থেকেই উড়ে এসেছিল একটি ড্রোন। সেখান থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন গ্রামের কাছে ওই অস্ত্রশস্ত্র ফেলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দুটো একে অ্যাসাল্ট রাইফেল, একটা পিস্তল এবং তিনটি একে ম্যাগাজিন আর ৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে জাদ-সোহাল গ্রাম থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আখনুর গ্রাম, যেখান থেকেও উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। কাশ্মীর উপত্যকায় যে জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়ে লুকিয়ে রয়েছে তাদের জন্যই পাকিস্তান থেকে এই অস্ত্র পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।
জম্মু পুলিশের সিনিয়র অফিসার শ্রীধর পাটিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তাদের সন্দেহ এইসবের পিছনে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ। তারাই জঙ্গিদের অস্ত্র সরবরাহ করছে পাকিস্তান থেকে। তবে এইসব গ্রামের কেউ জঙ্গিদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে কিনা তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
গত বছর প্রথম পাক-ড্রোনের দেখা গিয়েছিল পঞ্জাবে সীমান্তে। এরপরেই সতর্ক করা হয় বিএসএফকে। পঞ্জাব পুলিশও জানিয়েছে সীমান্ত এলাকায় ড্রোন থেকে অস্ত্রশস্ত্র ফেলা হয়েছিল গত বছর অক্টোবর মাসে। উদ্ধার হয়েছে একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড এবং স্যাটেলাইট ফোন। পঞ্জাব পুলিশেরও সন্দেহ ছিল জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশকারী এবং লুকিয়ে জঙ্গিদের জন্যই এইসব অস্ত্রশস্ত্র পাঠানো হয়েছিল।
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ সিংও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর যে ভাবেই হোক জঙ্গি অনুপ্রবেশ করাতে চায় পাকিস্তান। তাদের অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যও পাকিস্তানের তরফে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন উপত্যকার পুলিশ প্রধান। দিলবাগ সিং আরও বলেছেন যে পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে অত্যাধুনিক অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে জঙ্গিদের জন্য।
দিলবাগ সিংয়ের অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া পাকিস্তানের অন্যতম লক্ষ্য। সেজন্যই জঙ্গি অনুপ্রবেশের পাশাপাশি অস্ত্র সরাবরাহের ব্যবস্থাও করেছে পাকিস্তান। তবে সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি রয়েছেন দেশের সেনা-জওয়ানরা। উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীরে গালার গ্রামের কাছে আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর একটি টানেল বা সুড়ঙ্গ খুঁজে পেয়েছিল বিএসএফ। ১৭০ মিটার দীর্ঘ ওই সুড়ঙ্গের মুখ প্লাস্টিকের বস্তা জাতীয় জিনিস দিয়ে আটকানো ছিল। তাতে আবার ছাপ ছিল করাচির। গত ২৮ অগস্ট ২০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই সুড়ঙ্গের হদিশ পান বিএসএফ জওয়ানরা। এই প্রসঙ্গেও দিলবাগ সিং বলেন, ভারতের ভূখণ্ডে জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্যই এই সুড়ঙ্গ বানানো হয়েছিল।