দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের জেরে গত কয়েক মাস ধরে মহা সমস্যায় পড়েছে রাস্তার কুকুর-বিড়ালরা। আগে তবু লোকজনের দয়ায় এটা-ওটা জুটে যেত ঠিক। তবে এখন সে উপায় নেই। করোনার ভয়ে রাস্তাঘাটে লোক দেখা যাচ্ছে না তেমন। কিছু পশুপ্রেমী সংগঠন অবশ্য রাস্তার অবলা জীবদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে এই দুর্দিনে। তবে সব জায়গায় সেই সুবিধা নেই। তাই সমস্যা রয়েইছে।
দেশের এমন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছেএ একটি ভিডিও। যেখানে দেখা গিয়েছে, এক বৃদ্ধ ভিখারি নিজের খাবার থেকে ভাগ দিচ্ছেন পথের কুকুরদের। বৃদ্ধের পরনে মলিন পোশাক। জট পড়েছে চুল-দাড়িতে। তবে তার মুখে লেগে রয়েছে এক অদ্ভুত পরিতৃপ্তির হাসি। পথের কুকুরদের খাইয়ে ওই বৃদ্ধ যে পরম আনন্দ পেয়েছেন এটা স্পষ্ট।
আর পাঁচজন সহজে যা করতে পারে না সেটাই করে দেখিয়েছেন এই বৃদ্ধ। দুর্দিনে নিজের খাবার থেকে অন্যকে ভাগ দেওয়ার মতো উদার মানসিকতা সকলের থাকে না। তা তিনি যতই বিত্তবান হোন না কেন। তবে চালচুলোহীন এই বৃদ্ধের আর্থিক ক্ষমতা না থাকুক অন্তত অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছাটুকু রয়েছে।
https://twitter.com/i/status/1283576175613276160
টুইটারে এই ভিডিও শেয়ার করেছেন আইএফএস অফিসার সুশান্ত নন্দা। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, "আর্থিক ভাবে গরিব কিন্তু হৃদয়ের দিক থেকে ধনী"। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভিডিও। প্রায় ২০ হাজার লোক ইতিমধ্যেই দেখেছেন ওই বৃদ্ধের মানবিকতার পরিচয়। ভিডিওতে লাইকের সংখ্যা তিন হাজার পেরিয়েছে। বৃদ্ধ ভিখারির দয়ালু আচরণের প্রশংসা করেছেন নেটিজেনরা। বৃদ্ধকে সাধুবাদ জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন টুইটারিয়ানদের অনেকেই। নেট দুনিয়ার সকলেই কুর্নিশ জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধকে। আর বলেছেন, "নিজের খাবার জোটাতেই যাঁকে রীতিমতো কষ্ট করতো হয় রাস্তার অবলা জীবদের প্রতি তাঁর এমন দয়ালু আচরণ দেখে আমাদের সকলেরই কিছু শেখা উচিত। মনে রাখা প্রয়োজন দুর্দিনে স্বার্থ ভুলে একে অন্যের পাশে দাঁড়ালেই বিপদ কাটবে দ্রুত।"
সুশান্ত নন্দার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে নেট দুনিয়ার একটা বড় অংশ। প্রায় সকলেই বলছেন, "যাঁর হৃদয় এত বড়, ভাবনাচিন্তা এত উদার তিনিই আসল ধনী। পার্থিব ধনদৌলত না থাকলেও তিনিই শ্রেষ্ঠ ধনী মানুষ। যিনি অসময়ে, দুর্দিনে নিজের আগে অন্যের কথা ভাবেন। বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে অন্যের সমস্যা সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনিই বোধহয় প্রকৃত মানুষ।"