দ্য ওয়াল ব্যুরো: পায়েল ডিকি সিন্হা। বিয়ের পর পদবী পাল্টে গেলেও তাঁর সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন দুই বাঙালি আইকন। একজন তাঁর মা অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। অন্যজন ঠাকুর্দা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু মৌসুমীর মেয়ে এবং হেমন্তর নাতনিই এখন নিত্যদিন অবহেলার শিকার। ক্রমাগত শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে তাঁর। কিন্তু পায়েলের নূন্যতম দেখভালটুকুও কেউ করে না। তাঁর মা-বাবা অবশ্য চান মেয়েকে কাছে রাখতে। দেখভাল করতে। কিন্তু তাঁরা অপারগ। আর এই সবের মূলে রয়েছেন পায়েলের স্বামী ডিকি সিন্হা।
মেয়ের জীবন নিয়ে এখন প্রতি মুহূর্তে সংশয়ে রয়েছেন মৌসুমী। যে কোনও দিন হয়তো মৃত্যু হতে পারে তাঁর মেয়ে পায়েলের। বড় পর্দায় যিনি তাঁর অভিনয় দিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন, যাঁর সেন্স অফ হিউমার এবং কমেডি চরিত্রে "ওগো বধূ সুন্দরী"-তে অভিনয় দেখে পেট চেপে আজও হাসেন বাঙালি, আজ তাঁরই মুখের হাসি কার্যত মিলিয়ে গিয়েছে। আতঙ্কে কাটছে দিন। তাই মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব নিতে চেয়ে এ বার বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামী জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়।
ছোট থেকেই ডায়াবেটিসের রোগী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে পায়েল। যত সময় এগিয়েছে, অবনতি হয়েছে শারীরিক অবস্থার। আর এখন তো একেবারেই শয্যাশায়ী। অসাড় হয়ে শুয়ে থাকেন বিছানায়। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পায়েল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে তাঁর। পৌঁছে গিয়েছেন কোমার একদম কাছাকাছি। মৌসুমী এবং তাঁর স্বামী জয়ন্ত অভিযোগ করেছেন, পায়েলের স্বামী ডিকি সিন্হা দেখভাল করেন না তাঁদের মেয়ের। পেশায় ব্যবসায়ী ডিকির সঙ্গে ২০১০ সালে বিয়ে হয় পায়েলের। এরপর পায়েল, ডিকি এবং পায়েলের বাবা জয়ন্ত মিলে একটি কোম্পানিও তৈরি করেন। নাম ছিল
Tethys Business and Projects Private Limited। এই সংস্থার ডিরেক্টর ছিলেন তিনজন। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক গন্ডগোলের জন্য সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে পায়েল এবং ডিকির মধ্যে।
মৌসুমী জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান পায়েল। সেই সময় পায়েলের ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট চালু করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। পরিবর্তন আনেন পায়েলের খাওদাওয়াতেও। প্রাথমিক ভাবে তাঁর মেয়েকে জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ডিকি। দায়িত্ব নেন পায়েলের দেখাশোনার। চালু হয় ফিজিওথেরাপি। পায়েলের জন্য রাখা নার্সও। কিন্তু সে সবের মেয়াদ ছিল মাত্র কয়েক দিন। মৌসুমীর অভিযোগ, চার-পাঁচ মাস পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় পায়েলের ফিজিওথেরাপি।
মৌসুমী ও তাঁর স্বামী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় আদালতের কাছে অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসকের নির্দেশ মতো পায়েলের ডায়েটে কোনও পরিবর্তন করেননি ডিকি। এমনকী প্রথমে যে নার্সরা পায়েলের দেখভালের জন্য ছিলেন, তাঁদের মাইনে না দেওয়ায় তাঁরাও কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে প্রায় ৪-৫ মাস ধরে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে পায়েলের। পায়েলের মেডিক্যাল সংক্রান্ত কপিও নাকি তাঁদের দেখাননি ডিকি। ফলে মেয়ের এই মুহূর্তে কী শারীরিক অবস্থা, সেটাও তাঁরা জানেন না বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমী। মেয়েকে দেখভালের জন্য মৌসুমী ও তাঁর স্বামী মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু ডিকি নাকি তাঁদের মেয়ের সঙ্গে দেখাও করতে দেননি।
মৌসুমী ও তাঁর স্বামী জয়ন্তর আইনজীবী সমর্থ মোরে জানিয়েছেন, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর খার থানাতেও ডিকির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। অভিযোগে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে, তাঁরা যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেন ডিকির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পর এ বার সোজা বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তাঁরা।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটুলি থেকে চুরি যাওয়া গয়না পাওয়া গেল সুন্দরবনে!
বাড়িতে বৃদ্ধা মা। অসুস্থ। একমাত্র মেয়েও চাকরির কারণে সারাদিন মা-কে দেখাশোনা করতে পারেন না। তাই পাটুলির বাড়িতে মা-কে দেখভালের জন্য সারা দিনের জন্য খাওয়া-পড়ায় এক আয়াকে রেখেছিলেন মেয়ে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে বাড়ির সকলের বিশ্বাসও অর্জন করেছিল ওই পরিচারিকা। এরপর বৃদ্ধার মৃত্যুর পর মেয়ের নজরে আসে গয়না নেই!..... আরও পড়ুন।