
শেষ আপডেট: 19 December 2018 14:53
দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের কাছে হায়দরাবাদ হাউজ ছিল নিজামের প্রাসাদ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ভারত সরকার তা অধিগ্রহণ করে। এখন বিদেশি রাষ্ট্রনেতারা এলে, প্রতিনিধি পর্যায়ের অধিকাংশ বৈঠক হায়দরাবাদ হাউজেই হয়।
চিঠিতে লোধাকে সুষমা আরও জানিয়েছেন, জিন্না হাউজ আগে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব কালচারাল রিসার্চের অধীনে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় তা বিদেশ মন্ত্রককে হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছে।
এর আগে ডিসেম্বরের পাঁচ তারিখে, সুষমাকে এই বাংলো নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন লোধা। সেই চিঠিতে লোঢা প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিন্না হাইজকে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক।
অতীতে, জিন্না হাউজকে ‘দেশভাগের প্রতীক’ হিসেবে মন্তব্য করে তা ভেঙে ফেলার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন লোধা। অনেকের মতে, লোঢা হলেন টিপিকাল প্রোমোটার। মালাবার হিলসের মতন বর্ধিষ্ণু জমির ওপর তাঁর নজর ছিল। একবার হাতে পেলেই কয়েক হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে ফেলতে পারতেন তিনি। কিন্তু তা হতে দিল না সরকার। বরং জিন্না হাউজকে অধিগ্রহণ করার মধ্যেও একটা জাতীয়তাবাদের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা আছে।
সমুদ্রে কোল ঘেঁষে, জিন্নার এই বাংলোর ডিজাইন করেছিলেন ব্রিটিশ স্থাপত্যবিদ ক্লদ বেটলি। গত শতাব্দীর তিনের দশকের শেষ দিকে, ইউরোপিয়ান স্থাপত্যের এই বাড়িতেই থাকতেন জিন্না।
কায়েদ-ই-আজম জিন্নার এই বাড়িতে তাদের মুম্বাই কনসুলেট গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তান।
২০০৭ সালে, এই বাড়ির মালিকানার জন্য বম্বে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন জিন্নার মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া। দিনার মৃত্যুর পর সেই মামলা চালাচ্ছেন দিনার পুত্র শিল্পপতি নেস ওয়াদিয়া।
সুষমার চিঠি পাওয়ার পরে লোঢা সংবাদ সংস্থা পিটি আইকে জানিয়েছেন, বিদেশ মন্ত্রক যখন অধিগ্রহণ করছে তখন সব বিতর্ক শেষ।