দ্য ওয়াল ব্যুরো: সার্কাসের খেলা দেখাচ্ছিলেন এক মহিলা অ্যাক্রোব্যাট। আচমকাই ঘটল ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। পারফরম্যান্সের মাঝেই পা ফসকে পড়ে যান ওই অ্যাক্রোব্যাট। ভয়ে-আতঙ্কে চিৎকার করে উঠেছিলেন গ্যালারিতে বসা দর্শকরা। অনেকে অবশ্য ভেবেছিলেন এটা বোধহয় স্টান্টেরই অংশ। কিন্তু খানিকক্ষণ কেটে গেলেও মাটি থেকে ওই অ্যাক্রোব্যাট উঠে না দাঁড়ানোয় সন্দেহ হয় সকলের। বুঝতে পারেন বড়সড় কিছু একটা হয়েছে।
ডেলি মেলের একটি রিপোর্ট অনুসারে, লন্ডনের হাইড পার্কে উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ড ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করতে গিয়েছিলেন বছর ৩৫-এর জ্যাকি আর্মস্ট্রং। জিপোস ক্রিস্টমাস সার্কাসে ছিল তাঁর শো। শূন্যে ভেসে থাকা জ্যাকির স্টান্টে মজেছিলেন আট থেকে আশি। অনায়াসে একের পর এক কসরত করে যাচ্ছিলেন ওই অ্যাক্রোব্যাট। আচমকাই হল ছন্দপতন। স্টান্টের মাঝেই পা ফসকে গিয়েছিল জ্যাকির। ছিটকে সটান নীচে পড়ে যান তিনি। কর্তৃপক্ষের অনুমান, প্রায় ৩০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গিয়েছিলেন জ্যাকি। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, "ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। চোখে সামনে অত উঁচু থেকে সটান ছিটকে পড়ে গেলেন ওই মহিলা। এখনও চোখ বুজলে সামনে ওই দৃশ্যই ভাসছে। ভয়-আতঙ্কে শিউরে উঠছি বারবার।"
জ্যাকির ছিটকে পড়ার মুহূর্তে আঁতকে উঠেছিলেন সার্কাস কর্তৃপক্ষের লোকজনও। ক্ষণিকের জন্য ভেবেছিলেন হয়তো এটা সেদিনের কসরতের অংশ। কেউবা ভেবেছিলেন অঘটন ঘটার আগেই সামলে নেবেন জ্যাকি। কিন্তু পরমুহূর্তেই সব ভুল ভেঙে যায়। ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কা করে জ্যাকির কাছে ছুটে যান তাঁরা। ততক্ষণে প্যারামেডিক্যাল টিমকে ডাকতে শুরু করেছেন আশেপাশে থাকা সকলেই। সব মিলিয়ে এক ভয়ানক আতঙ্কের পরিবেশ। যদিও জ্যাকিকে উদ্ধার করার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁকা করে দেওয়া হয় সার্কাসের ওই তাঁবু। আতঙ্কগ্রস্ত সকল দর্শককে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়। জ্যাকিকে নিয়ে হাসপাতালে দিকে রওনা দেয় প্যারামেডিকদের টিম। তাঁর অবস্থা এখন কেমন সে ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জিপোস সার্কাসের তরফে জানানো হয়েছে ব্রিটিশ অ্যাক্রোব্যাট জ্যাকি আর্মস্ট্রন সেদিন এরিয়াল অ্যাক্ট প্রদর্শন করছিলেন। এই স্টান্ট প্রদর্শনে জ্যাকির জুড়ি মেলা ভার বলেও জানিয়েছে সার্কাস কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এটাও জানা গিয়েছে যে গত ১০ বছর ধরে এই স্টান্ট পারফর্ম করার সঙ্গে যুক্ত জ্যাকি। নিখুঁত ফিনিশিং তাঁর। কারণ জ্যাকি ভালমতই জানেন যে মাইক্রো সেকেন্ডের ভুলেও মৃত্যু অনিবার্য। হয়তো বা সারাজীবনের মতোই খেলা দেখানোই বন্ধ হয়ে যাবে তাঁর। এমন দক্ষ একজন আর্টিস্টের সঙ্গে কীভাবে এত বড় অঘটন ঘটল সেটাই বুঝতে পারছে না সার্কাস কর্তৃপক্ষ। গোটা ঘটনার তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
আপাতত হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন জ্যাকি। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় সামিল হয়েছেন জিপোস সার্কাসের সকলেই। জ্যাকির স্টান্টের ভক্তরাও প্রার্থনা করছেন তাঁর সুস্থতার জন্য।