রাজপরিবার ছাড়ার পরে রাজকীয় বার্গার সংস্থায় চাকরির প্রস্তাব পেলেন প্রিন্স হ্যারি! টুইটারে হাসির রোল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজপরিবার ছেড়ে বেরিয়ে স্বনির্ভর ও স্বাধীন হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ব্রিটেনের রয়্যাল ফ্যামিলির সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কলে। এর পরেই হ্যারিকে পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দিল ব্রিটেনের বিখ্যাত ফুট চেন 'বার্
শেষ আপডেট: 15 January 2020 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজপরিবার ছেড়ে বেরিয়ে স্বনির্ভর ও স্বাধীন হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ব্রিটেনের রয়্যাল ফ্যামিলির সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কলে। এর পরেই হ্যারিকে পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দিল ব্রিটেনের বিখ্যাত ফুট চেন 'বার্গার কিং'।
হ্যারির উদ্দেশে টুইট করে তারা জানিয়েছে, হ্যারি-মেগান রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন তো কী হয়েছে, এই রাজপরিবার তাঁদের জন্য চাকরি দিতে প্রস্তুত। এই টুইঠের পরেই লাইক-কমেন্টের ঝড় বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইতিমধ্যেই দু'হাজার রিটুইট ও সাত হাজার শেয়ার হয়ে গেছে পোস্টটি।
https://twitter.com/BurgerKing/status/1216823135359635456?
বার্গা রিং-এর রসবোধের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন কেউ কেউ। কেউ আবার বলেছেন, এবার আর কোনও চিন্তা নেই, দিব্যি স্বনির্ভর হতে পারবেন হ্যারি। বার্গার কিং আরও একটি পোস্ট করে জানায়, চাইলে তারা হ্যারির জন্য একটি মুকুটেরও ব্যবস্থা করতে পারে।
কয়েক দিন আগেই হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো রাজপরিবার ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন হ্যারি ও মেগান। জানিয়েছেন, বংশ পরিচয়ও ত্যাগ করবেন তাঁরা, নিজেরা নিজেদের মতো করে জীবন কাটাবেন। প্রথমে তোলপাড় পড়ে গেলেও, পারিবারিক বৈঠক করার পরে সম্মতি দিয়েছেন রানি এলিজাবেথ। জানিয়েছেন, রাজপরিবারের শুভকামনা সবসময় তাঁদের সঙ্গে থাকবে।
সান্ড্রিংহ্যাম স্টেটে প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস, ডিউক অব কেমব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম ও ডিউক অব সাসেক্সে প্রিন্স হ্যারিকে নিয়ে করা ওই বৈঠকের পরে রানি এলিজাবেথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, "রাজপরিবার আমার নাতি (প্রিন্স হ্যারি) ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছে। আমি এবং আমার পুরো পরিবার হ্যারি ও মেগানের নতুন পারিবারিক জীবনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছি। তার পরেও আমরা চাই তারা রাজপরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবেই থাকুক। তাদের স্বাধীন জীবনযাপনের ইচ্ছাকে আমরা শ্রদ্ধা করি।"
দিন কয়েক আগে
বাকিংহাম প্যালেস থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে হ্যারি-মেগান জানিয়েছিলেন যে, প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকার জন্য তাঁদের অনেক লড়তে হচ্ছে। বিয়ের পর থেকেই প্রতিদিন নানা মুখরোচক খবরাখবর হচ্ছে তাঁদের ঘিরে, যা তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তাঁদের ওই বিবৃতিতে আরও লেখা– “আমরা আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর হতে চাই। এই রাজপরিবারের বাইরে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশার যে পরিবেশ, তা উপভোগ করতে চাই। ভেবেছি, ইংল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকায় ঘুরিয়েফিরিয়ে সময় কাটাব। আমরা চাই, রানি নিজের রাজত্ব সামলে শান্তিতে থাকুন।”গণমাধ্যমের আলো থেকে নিজেদের ও সন্তান আর্চিকে আড়ালে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তার পরে অনেক চিন্তাভাবনা করেই তাঁরা রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, চার্লস-ডায়নার দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির মধ্যে বাইরে থেকে কোনও শত্রুতা চোখে না পড়লেও, সদ্ভাব কোনও দিনই খুব একটা ছিল না। নানা বিষয়েই মতপার্থক্য হতো তাঁদের। প্রিন্স হ্যারির বিয়ের পরে মেগান মার্কেল তাঁদের পরিবারে পা রাখতেই নাকি এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। দু’ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ এমন জায়গায় পৌঁছয়, একসময়ে নাকি মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যায় তাঁদের।
ভাইয়ে-ভাইয়ে সেই বিবাদ থামাতে আসরে নামেন স্বয়ং রানি এলিজাবেথ। কিন্তু তার পরেও যে শেষরক্ষা হল না, তা বোধহয় স্পষ্ট হয়ে গেল মেগান-হ্যারির ঘোষণায়। বাড়ি থেকে বেরিয়েই গেলেন তাঁরা। রাজপরিবারে ভাঙন ঘটল এই প্রথম।
এখন ঠিক কোন পথে হ্যারি ও মেগান তাঁদের আগামী জীবন সাজিয়ে নেন, কীভাবে স্বনির্ভর ও স্বাধীন হয়ে ওঠেন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ব্রিটেনবাসী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মজা করে এই ঘটনার নাম দিয়েছে ‘মেক্সিট’। অর্থাৎ মেগানের এক্সিট। মূলত মেগানের প্ররোচনাতেই হ্যারি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও ইঙ্গিত করা হয়েছে নানা মহলে।
তবে অনেকেই বলছেন, মেগান ও হ্যারি চাইলে অবশ্যই তাঁদের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। নিজেদের জীবিকা খুঁজে নিয়ে স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকতে চাওয়া কোনও অপরাধ নয়, তা তাঁরা যে পরিবারেরই সদস্য হোন না কেন। তাছাড়া রাজপরিবার কে ছাড়ল বা কে রইল, তা নিয়ে দেশের-দশের কিছু যাবে-আসবে না বলেই মনে করছেন ব্রিটেনবাসীর একাংশ।