
প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 21 August 2024 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর হাসপাতালে অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের ঘুঘুর বাসার ছবিটা পরতে পরতে উঠে আসছে। দিনমানে ঘটে চলা সেই ডাকাতির 'সর্দার' ছিলেন খোদ প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ। যিনি ফেল করা পড়ুয়াদের পাশ করানোর জন্য এবং হাসপাতাল সামগ্রী সরবরাহকারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২০ শতাংশ করে কাটমানি নিতেন। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, অপারেশন গ্লাভস এবং সাধারণ গ্লাভস রোজ কিলো কিলো বেচে দিতেন। প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৬০০ কেজি চিকিৎসা-বর্জ্য হাসপাতাল থেকে বেরত। দুই বাংলাদেশি সেগুলোকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করত বলে অভিযোগ।
আর জি কর নিয়ে শোরগোল পড়ে যাওয়ার পর মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের ডেপুটি সুপার আখতার আলিকে মঙ্গলবার ডাকা পাঠিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। আর জি করে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত রাজ্যের বিশেষ তদন্তকারী দলের মুখোমুখি হন আলি। আখতার আলি বছরখানের আগে এই আর জি কর হাসপাতালেরই ডেপুটি সুপার পদে ছিলেন। যিনি সন্দীপ ও ঘোষ ও অন্যান্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে লিখিত অভিযোগে নানান দুর্নীতির কথা তুলে ধরেছিলেন।
আখতারের অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশ মঙ্গলবার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একটি আর্থিক দুর্নীতির এফআইআর দায়ের করে। গতবছর ১৪ জুলাই লেখা একটি চিঠিতে আলি জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যভবনের অথবা কলেজ কাউন্সিলের বিনা অনুমতিতে হাসপাতাল থেকে সরকারি সম্পদ পাচার হয়। ঠিকাদার নির্বাচনে স্বজনপোষণ চলে অবাধে। কোটি কোটি টাকার সামগ্রী সরবরাহের বরাত অযোগ্য ঠিকাদারদের পাইয়ে দেওয়া হয়।
আলি বলেন, আমি ডাঃ ঘোষের বিভিন্ন দুর্নীতির কথা ভিজিল্যান্স কমিশন, দুর্নীতি দমন ব্যুরো এবং স্বাস্থ্য দফতরকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, সন্দীপ ঘোষের নেতৃত্বে আর জি কর হাসপাতালে যে অশুভ মধুর চাক গড়ে উঠেছিল, তার নেপথ্যে ছিল কোনও শক্তিশালী ছত্রছায়া। তাই এরকম অনেক অপরাধ দিনের পর দিন ঘটে গেলেও কেউ টুঁ শব্দটি করেননি। সকলেই মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছেন। বিশেষত পড়ুয়ারা ভবিষ্যতের কথা ভেবে এর আগে কোনওদিন আওয়াজ তোলেনি তাঁর বিরুদ্ধে।