
শেষ আপডেট: 30 June 2020 18:30
নাসার ট্রানসিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’ বা টেস এখন এই উষ্ণতম গ্রহের খবরাখবর বয়ে আনছে। এই গ্রহ হল গ্যাসের গোলা। দেখতে অনেকটা আমাদের সৌরমণ্ডলের বৃহস্পতি গ্রহের মতো, তবে আকারে বৃহস্পতির চেয়েও ১.৮ গুণ বড়। ভরও প্রায় ২.৯ গুণ বেশি। যার মোহে জ্বলেপুড়ে গিয়েও কক্ষচ্যুত হয়নি, সেই তারার চারদিকেই ৩৬ ঘণ্টায় পাক খেয়ে আসছে কেল্ট-৯বি। প্রতিবার পাক খাওয়ার সময় তারার গনগনে তেজে তার সারা শরীর তেতেপুড়ে যাচ্ছে। উবে ধোঁওয়া হয়ে যাচ্ছে বায়ুমণ্ডল।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই গ্রহের একটা পিঠ সবসময় তারার দিকেই থাকে। সেদিকটাই পুড়ে যায়। আমাদের পৃথিবী তার সূর্য থেকে যতটা শক্তি পায়, এই গ্রহ তার প্রিয় নক্ষত্রের থেকে ৪৪ হাজার গুণ বেশি শক্তি ও তাপ পায়। যার কারণেই গ্রহের যে পিঠটা নক্ষত্রের দিকে থাকে সেখানকার তাপমাত্রা ৭ হাজার ৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট অর্থাৎ ৪ হাজার ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়। এই প্রচণ্ড উত্তাপে গরম গ্যাসের গোলায় পরিণত হয় কেল্ট-৯বি। পুড়ে ছাই হতে থাকে এর একটা অংশ।
মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, যে তারাকে কেন্দ্র করে ঘুরে চলেছে কেল্ট-৯বি তার বয়স খুব একটা বেশি নয়। হিসেবে দেখা গেছে ৩০ কোটি বছর বা তার একটু বেশি। তবে এই তারার আকার এবং ভর দুই সূর্যের থেকে বেশি। সূর্যের চেয়ে প্রায় ৫৬% বেশি উত্তপ্ত। এর আবর্তনের সময়ও সূর্যের বেশি দ্রুত, একবার স্পিন করতে সময় লাগে ১৬ ঘণ্টা। এত দ্রুত স্পিনিং-এর কারণে এই তারার আকারে বদল হয়। মেরু অঞ্চল বেশি উত্তপ্ত ও উজ্জ্বল হয়ে যায় এবং অন্য অংশ তুলনায় ঠাণ্ডা হতে থাকে, ঔজ্জ্বল্যও কমতে থাকে। ফলে তাপমাত্রার ফারাক হতে শুরু করে। এই ঘটনাকে বলে গ্র্যাভিটি ডার্কেনিং (Gravity Darkening) । এমন চঞ্চল আর খামখেয়ালী তারার জন্য গ্রহের উপরেও তার প্রভাব পড়ে। কেল্ট-৯বি গ্রহের একটা পিঠে নক্ষত্র থেকে ছিটকে আসা আলট্রা-ভায়োলেট রে বা অতিবেগুণী রশ্মির মাত্রা বেড়ে যায়। যার কারণেই বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে উবে যেতে থাকে।
নাসার এই কেল্ট-ট্রানসিট সার্ভের সঙ্গে জড়িত কেমব্রিজের এমআইটি ইউনিভার্সিটি এবং গড্ডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার। গড্ডার্ডের বিজ্ঞানী নিকোলে কোলন বলেছেন, এই তাপমাত্রা ও শক্তির ক্রমাগত অদলবদলে গ্রহ ও তারার মধ্যে যে কেমিস্ট্রি তৈরি হচ্ছে সেটাই রহস্য। প্রচণ্ড উজ্জ্বল একটা তারার সামনে মাঝেমাঝেই উবে যাচ্ছে গ্রহের একটা অংশ, এমন ঘটনা আগে চোখে থুরি টেলিস্কোপের লেন্সে ধরা পড়েনি। এই ট্রানসিট সার্ভেরই অন্যতম মুখ্য গবেষক জেসন বার্নেসের কথায়, কেল্ট-৯বি গ্রহের রহস্যের শেষ এখানেই নয়। কীভাবে বারে বারেই এই গ্রহ তার আগের রূপে ফিরে আসে সেটাই জানার চেষ্টায় বিজ্ঞানীরা।