Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, কতটা লাভ বাংলার? সবচেয়ে বেশি ও কম সিট বাড়ছে কোন রাজ্যে?নববর্ষে কলকাতা সফরে আইওসি-র শীর্ষ কর্তা, এলপিজির বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে হাজির গ্যাসের দোকানেও৮ হাজার লিটার গঙ্গাজল, গরু আর রুপোর কলসী! ফিরে দেখা জয়পুরের মহারাজার আজব লন্ডন-সফরগুয়ার্দিওলা-পরবর্তী ফুটবলের নমুনা মেলে ধরেছে কোম্পানি আমলের বায়ার্ন! আজ সামনে রিয়ালআশা ভোঁসলের শেষযাত্রায় যাননি শাহরুখ-সলমন! বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সামনে এল আসল কারণভোটের মুখে হুগলিতে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি! ক্ষুব্ধ স্মৃতি ইরানি মাঝপথেই ছাড়লেন শোভাযাত্রা‘ইলিশ এনে দিন, আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি’, তৃণমূলের মাছ-মাংস বন্ধের অভিযোগের পাল্টা স্মৃতির ‘আশা করি আগের বছরের মতো হবে না’, নববর্ষে আবারও আশায় বুক বাঁধলেন শাশ্বতআমেরিকার অবরোধ তুলতে বিকল্প পথে হাঁটছে ইরান, হরমুজ ছাড়া অন্য রাস্তায় জাহাজ চালানোর চেষ্টা?আরব দুনিয়ায় অশান্তির মেঘ সরছে? আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সবুজ সঙ্কেত, ‘নীতিগত’ সায় দুপক্ষের

রাক্ষুসে তারার টানে ছুটছে ব্রহ্মাণ্ডের উষ্ণতম গ্রহ, জ্বলেপুড়ে ছাই হচ্ছে, উবে যাচ্ছে, আবার ফিরছে ফিনিক্স পাখির মতো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ এক আগুনে তারা আর ব্রহ্মাণ্ডের উষ্ণতম গ্রহের গল্প। এই গল্পের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালে। সূর্যের চেয়েও আকারে-আয়তনে বিশাল, দৈত্যাকার এক তারার চারপাশে ছুটে চলেছে এক গ্রহ। নক্ষত্রের প্রচণ্ড তেজে জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে তার গা। উবে যা

রাক্ষুসে তারার টানে ছুটছে ব্রহ্মাণ্ডের উষ্ণতম গ্রহ, জ্বলেপুড়ে ছাই হচ্ছে, উবে যাচ্ছে, আবার ফিরছে ফিনিক্স পাখির মতো

শেষ আপডেট: 30 June 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ এক আগুনে তারা আর ব্রহ্মাণ্ডের উষ্ণতম গ্রহের গল্প। এই গল্পের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালে। সূর্যের চেয়েও আকারে-আয়তনে বিশাল, দৈত্যাকার এক তারার চারপাশে ছুটে চলেছে এক গ্রহ। নক্ষত্রের প্রচণ্ড তেজে জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে তার গা। উবে যাচ্ছে গ্রহের বায়ুমণ্ডল। ফুটতে ফুটতে যেন ছাই হয়ে যাচ্ছে গ্রহের একাংশ। মেঘের মতো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশে। কিন্তু না গল্পের শেষ এখানেই নয়। সেই জ্বলেপুড়ে যাওয়া ছাই থেকে যেন ফিনিক্স পাখির মতোই ফের ফিরে আসছে গ্রহ। আবার শুরু হচ্ছে চড়কি পাক। আবারও সেই টগবগ করে ফুটতে ফুটতে উবে যাওয়া। https://twitter.com/NASA/status/1278137932227006465 পৃথিবী থেকে মাত্র ৬৭০ আলোকবর্ষ দূরেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। ওই আগুনে তারা আর ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে আসা গ্রহকে নিয়ে মহাকাশবিজ্ঞানীদের চিন্তাভাবনার শেষ নেই। কী রহস্য লুকিয়ে আছে ওই দুই তারা-গ্রহের সংসারে সেটা জানতে উঠেপড়ে লেগেছে নাসা। সম্প্রতি নাসার এক্সোপ্ল্যানেট হান্টার ট্রানসিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’ (TESS)-এর লেন্সে এই গ্রহের আরও কিছু বিস্ময়কর ঘটনা ধরা দিয়েছে। যদিও রহস্যের সমাধান হয়নি বলেই দাবি করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। তবে চাঞ্চল্যকর খবর জানা গেছে তাতে সন্দেহ নেই। https://www.youtube.com/watch?time_continue=114&v=bLMIo9Q5mDA&feature=emb_logo

আরও পড়ুন: চোখ রাঙিয়ে মহাশূন্যে ছুটে বেড়াচ্ছে দাপুটে সৌরঝড়, কতটা প্রভাব পড়বে চাঁদে, গবেষণায় নাসা

মহাকাশের উষ্ণতম গ্রহ। বিজ্ঞানীরা বলেন গরম গ্রহ। এত উত্তপ্ত গ্রহের হদিশ এর আগে ব্রহ্মাণ্ডে মেলেনি। এর নাম কেল্ট-৯বি (KELT-9b) । অ্যারিজোনা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বসানো দুটি রোবোটিক টেলিস্কোপে প্রথম এই কেল্ট-৯বি গ্রহের খোঁজ পেয়েছিলেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। গ্রহের হাবভাব আর মতিগতি দেখে তারপর থেকে কেল্ট-মিশনই হয়ে ওঠে ভিন্ গ্রহ তথা এক্সোপ্ল্যানেট-হান্টারদের পাখির চোখ। এই মিশনের নাম দেওয়া হয় কেল্ট-ট্রানসিট সার্ভে (KELT Transit Survey) নাসার ট্রানসিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’ বা টেস এখন এই উষ্ণতম গ্রহের খবরাখবর বয়ে আনছে। এই গ্রহ হল গ্যাসের গোলা। দেখতে অনেকটা আমাদের সৌরমণ্ডলের বৃহস্পতি গ্রহের মতো, তবে আকারে বৃহস্পতির চেয়েও ১.৮ গুণ বড়। ভরও প্রায় ২.৯ গুণ বেশি। যার মোহে জ্বলেপুড়ে গিয়েও কক্ষচ্যুত হয়নি, সেই তারার চারদিকেই ৩৬ ঘণ্টায় পাক খেয়ে আসছে কেল্ট-৯বি। প্রতিবার পাক খাওয়ার সময় তারার গনগনে তেজে তার সারা শরীর তেতেপুড়ে যাচ্ছে। উবে ধোঁওয়া হয়ে যাচ্ছে বায়ুমণ্ডল। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই গ্রহের একটা পিঠ সবসময় তারার দিকেই থাকে। সেদিকটাই পুড়ে যায়। আমাদের পৃথিবী তার সূর্য থেকে যতটা শক্তি পায়, এই গ্রহ তার প্রিয় নক্ষত্রের থেকে ৪৪ হাজার গুণ বেশি শক্তি ও তাপ পায়। যার কারণেই গ্রহের যে পিঠটা নক্ষত্রের দিকে থাকে সেখানকার তাপমাত্রা ৭ হাজার ৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট অর্থাৎ ৪ হাজার ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়। এই প্রচণ্ড উত্তাপে গরম গ্যাসের গোলায় পরিণত হয় কেল্ট-৯বি। পুড়ে ছাই হতে থাকে এর একটা অংশ। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, যে তারাকে কেন্দ্র করে ঘুরে চলেছে কেল্ট-৯বি তার বয়স খুব একটা বেশি নয়। হিসেবে দেখা গেছে ৩০ কোটি বছর বা তার একটু বেশি। তবে এই তারার আকার এবং ভর দুই সূর্যের থেকে বেশি। সূর্যের চেয়ে প্রায় ৫৬% বেশি উত্তপ্ত। এর আবর্তনের সময়ও সূর্যের বেশি দ্রুত, একবার স্পিন করতে সময় লাগে ১৬ ঘণ্টা। এত দ্রুত স্পিনিং-এর কারণে এই তারার আকারে বদল হয়। মেরু অঞ্চল বেশি উত্তপ্ত ও উজ্জ্বল হয়ে যায় এবং অন্য অংশ তুলনায় ঠাণ্ডা হতে থাকে, ঔজ্জ্বল্যও কমতে থাকে। ফলে তাপমাত্রার ফারাক হতে শুরু করে। এই ঘটনাকে বলে গ্র্যাভিটি ডার্কেনিং (Gravity Darkening) ।  এমন চঞ্চল আর খামখেয়ালী তারার জন্য গ্রহের উপরেও তার প্রভাব পড়ে। কেল্ট-৯বি গ্রহের একটা পিঠে নক্ষত্র থেকে ছিটকে আসা আলট্রা-ভায়োলেট রে বা অতিবেগুণী রশ্মির মাত্রা বেড়ে যায়। যার কারণেই বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে উবে যেতে থাকে। নাসার এই কেল্ট-ট্রানসিট সার্ভের সঙ্গে জড়িত কেমব্রিজের এমআইটি ইউনিভার্সিটি এবং গড্ডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার। গড্ডার্ডের বিজ্ঞানী নিকোলে কোলন বলেছেন, এই তাপমাত্রা ও শক্তির ক্রমাগত অদলবদলে গ্রহ ও তারার মধ্যে যে কেমিস্ট্রি তৈরি হচ্ছে সেটাই রহস্য। প্রচণ্ড উজ্জ্বল একটা তারার সামনে মাঝেমাঝেই উবে যাচ্ছে গ্রহের একটা অংশ, এমন ঘটনা আগে চোখে থুরি টেলিস্কোপের লেন্সে ধরা পড়েনি। এই ট্রানসিট সার্ভেরই অন্যতম মুখ্য গবেষক জেসন বার্নেসের কথায়, কেল্ট-৯বি গ্রহের রহস্যের শেষ এখানেই নয়। কীভাবে বারে বারেই এই গ্রহ তার আগের রূপে ফিরে আসে সেটাই জানার চেষ্টায় বিজ্ঞানীরা।

```