দ্য় ওয়াল ব্য়ুরো: নরেন্দ্র মোদী মানেই চমক। কখনও হাতে ক্যামেরা, কখনও পরণে দশলাখি স্য়ুট। মহাবলীপুরমেও চমক দিলেন তিনি।
হাফশার্ট, কাঁধে চাদর, পরণে মুণ্ডু। ঐতিহ্যের শহর মহাবলীপুরমে বৈঠকের আগে চিনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিংকে দক্ষিণভারতের চিরাচরিত পোশাকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরে ঘুরলেন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা মন্দিরে।
চিদম্বরম, এমকে স্ট্যালিন, পন্নিরসেলভামদের যে পোশাকে দেখে অভ্যস্ত তামিলনাড়ু, শুক্রবার তাঁরা অবিকল সেই পোশাকে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। একেবারে স্বচ্ছন্দেই ঘুরে বেড়ালেন প্রধানমন্ত্রী।
মুণ্ডু নাকি বেষ্টি, মোদী আসলে ঠিক পরেছিলেন, তা নিয়ে লোকে কাটাছেঁড়া করবে, গণমাধ্যম কাটাছেঁড়া করবে সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে। তবে মোদীর সে সব চিন্তা ছিল না। ধরাবাঁধা অ্যাজেন্ডা ছাড়া বৈঠকের আগে তিনি সমুদ্রের তীরে ঘুরলেন শি জিনপিঙের সঙ্গে। কোথাও মন্দিরের সারি, কোথাও রথের আদলে মন্দির যাকে অনেকে বলেন পঞ্চপাণ্ডবের রথ, কোথাও আবার পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে যুদ্ধের পটভূমি।
কিছুটা হলেও চমক ছিল শি জিনপিংয়ের পোশাকেও। ঘন রংয়ের কোট আর টাই – কোনওটাই ছিল না তাঁর পোশাকে, পরেছিলেন সাদা জামা আর কালো প্যান্ট।
মমল্লাপুরমে পাহাড়ের ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
নামেই বেসরকারি বৈঠক। ধরাবাঁধা কিছু নেই। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। দু’দিনের ঠাসা কর্মসূচি নিয়ে ভারতে এসেছেন শি জিনপিং। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই এ নিয়ে কড়া কথা শুনিয়ে এসেছে চিন। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে চিনে গেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জয়শঙ্কর নিজে দীর্ঘদিন চিনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। আবার জম্মু-কাশ্মীরের একাংশ (আকসাই চিন) দখল করে রয়েছে চিন। তারা অরুণাচলপ্রদেশকেও নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠক শেষে এ নিয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কী বলেন, সে দিকে শুধু ভারত নয়, তাকিয়ে পুরো বিশ্ব।