দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ৩০ কোটি মানুষকে যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে টিকার ডোজ দেওয়া যায়, সে জন্যই দেশজুড়ে টিকার মহড়া চলছে। এই বৃহত্তর কর্মসূচীকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার দায়িত্ব যতটা সরকারের ততটাই দেশবাসীর, এমনটাই বললেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। তাঁর বক্তব্য, টিকাকরণের আগেই নানা রকম গুজব রটছে। টিকার সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে দেশের বিতরণ সুষ্ঠুভাবে হবে না। এতে সমস্যা বাড়বে দেশের নাগরিকদেরই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, পোলিও টিকাকরণের সময়েও এমন নানা গুজব ছড়িয়েছিল। কিন্তু এখন দেশ পোলিও-মুক্ত। করোনা সঙ্কটও কেটে যাবে বলেই জানিয়েছেন হর্ষবর্ধন। তাঁর বক্তব্য, করোনা অতিমহামারীকে দূর করতে হলে একজোট হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। টিকার প্রয়োগ যাতে নিরাপদ হয়, মানুষ সুস্থ থাকেন, সে দেখার দায়িত্ব সরকারের। আর গুরুত্ব দিয়ে, নিষ্ঠার সঙ্গেই সে কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
https://twitter.com/ANI/status/1345231753678450688
করোনার টিকার মহড়া শুরু হয়েছে দেশের সমস্ত রাজ্যে। টিকার ড্রাই-রান নিজের চোখে দেখতে গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে দরিয়াগঞ্জের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও দ্বারকার ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে টিকাকরণের প্রস্তুতি দেখতে যাওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর। হর্ষবর্ধন বলেছেন, চার রাজ্যে ড্রাই-রানের রিপোর্ট খুবই ভাল। টিকার ডামি-ট্রায়াল করা হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরে। কীভাবে টিকার ইঞ্জেকশন দিতে হবে, কোথায় কোথায় টিকার বন্টন হবে, কোনও সমস্যা হলে কী ব্যবস্থা নিতে হবে তার সবকিছুই নিয়মমাফিক করা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে টিকাকরণের আগে সমস্ত রাজ্যেই এই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে।
এখনও অবধি জানা গিয়েছে, ১১৬টি জেলায় ড্রাই-রান শুরু হয়ে গেছে। ২৫৯টি শিবিরে টিকাকরণের মহড়া চলছে। জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে কেন্দ্রের টাস্ক ফোর্স। বাংলার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের ইউপিএইচসি ৪, আমডাঙা ও সল্টলেকের দত্তাবাদে টিকার ড্রাই-রান হচ্ছে। লখনৌতে ছ’টি জায়গায় চলছে টিকাকরণের মহড়া। পুণের তিনটি হেলথ কেয়ার সেন্টারে ড্রাই-রান হচ্ছে। ছত্তীসগড়ের সাতটি জেলা, গুজরাটের চারটি জেলা, পাঞ্জাবের পাতিয়ালা, হরিয়ানার পঞ্চকুলা, কেরলের চারটি জেলা তথা তিরুঅনন্তপুরম, ইদ্দুকি, ওয়ানাড় ও পালাক্কাড়ে চলছে টিকার মহড়া।