দ্য ওয়াল ব্যুরো : আলোয়ারে গণধর্ষণ নিয়ে কুমিরের কান্না কাঁদছেন মায়াবতী। এই বলে বিএসপি নেত্রীর সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার জবাবে সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন মায়াবতী। তারপরে বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি টুইট করে বলেছেন, মায়াবতী কোনও সরকারি পদে থাকার যোগ্য নন।
https://twitter.com/arunjaitley/status/1127819003890585600
মোদীকে সরাসরি ড্রামেবাজ আখ্যা দিয়ে দলিত নেত্রী বলেন, দলিতদের নিয়ে তিনি নাটক করছেন। দলিতদের প্রতি খুব ভালোবাসা দেখিয়েছেন। কিন্তু দলিতদের ওপরে যখন অত্যাচার হয়, তিনি চুপ করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী নোংরা রাজনীতি করছেন।
তারপর মোদীর স্ত্রীর প্রসঙ্গও টেনে আনেন মায়াবতী। তিনি বলেন, মোদী অন্যের স্ত্রী কিংবা বোনকে সম্মান দেবেন কীভাবে? তিনি তো রাজনৈতিক লাভের জন্য নিজের স্ত্রীকেই ছেড়ে এসেছেন। আমি মহিলাদের প্রতি বিশেষ করে আবেদন জানাচ্ছি, এমন লোককে ভোট দেবেন না। তিনি তো নিজের জাতও এক এক জায়গায় এক এক রকম বলেছেন। মোদী পরিস্থিতি অনুযায়ী জাত বদলে নেন।
এরপরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি টুইট করেন, বহেন মায়াবতী নিশ্চিত, তিনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেনই। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতিবোধ ও কথাবার্তা খুবই নিম্নস্তরে চলে গিয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন, তাতে বোঝা যায়, তাঁর এখন কোনও সরকারি পদে থাকার যোগ্যতা নেই।
গত ২৬ এপ্রিল রাজস্থানের আলোয়ারে ছ’জন এক দলিত মহিলাকে ধর্ষণ করে। তাঁর স্বামীকেও মারধর করা হয়। দুষ্কৃতীরা পুরো ঘটনার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। মহিলার পরিবার অভিযোগ করে, ভোট চলছে বলে পুলিশ সহজে মামলা চালু করতে চায়নি।
গত ডিসেম্বরে রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পরাস্ত হয়। ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। মায়াবতী আলোয়ারের ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভোটে ব্যাকল্যাশের ভয়ে কংগ্রেস ঘটনাটা চেপে যেতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী কংগ্রেসের সমালোচনার পাশাপাশি মায়াবতীরও সমালোচনা করেন। কারণ তাঁর বহুজন সমাজ পার্টি রাজ্যে কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করেছে।
মোদী টুইটারে লেখেন, উত্তরপ্রদেশের মেয়েরা বহিনজিকে প্রশ্ন করছে, রাজস্থানে তো আপনার সমর্থনে কংগ্রেস সরকার চালাচ্ছে। সেখানে এক দলিত মহিলা ধর্ষিত হয়েছেন। তাহলে আপনি সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নিচ্ছেন না কেন?
এরপরে মোদী বলেন, কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি মায়াবতীকে ব্যবহার করছে। কিন্তু আড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে বড় খেলা খেলছে। তার জবাবে মায়াবতী বলেন, অমেঠী ও রায়বরেলিতে গঠবন্ধনের সব ভোটই পাবে কংগ্রেস। অমেঠী কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র। ইউপিএ-র চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর কেন্দ্র রায়বরেলি।