
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 16 December 2024 21:35
রফিকুল জামাদার
সবার আগে দ্য ওয়ালে লেখা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা (Banglar Awas Yojana) তথা বাংলার বাড়ি (Banglar Bari) খাতে টাকা বড়দিনের আগেই রাজ্যের ১২ লক্ষ পরিবারের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। হচ্ছেও তাই। শনিবার দ্য লিখেছিল, অর্থ দফতর আবাস যোজনার টাকা জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতার। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত ও অর্থ দফতরকে সেই সময় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় নবান্ন সভাঘর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার বাড়ি খাতে টাকা দেওয়া শুরু করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অর্থাৎ মঙ্গলে ঊষা বুধে পা। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়ে যাবে। মঙ্গল-বুধবারের মধ্যে বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করে দেবে। নবান্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, সংখ্যাটা বিপুল। তাই আশা করা হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ১২ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। সুতরাং কেউ যেন অসহিষ্ণু না হয়ে পড়েন। যাঁদের নাম ফাইনাল লিস্টে রয়েছে, তাঁরা সবাই টাকা পাবেন।
এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে মাইলফলক। রাজ্যের ১২ লক্ষ পরিবার তথা প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে জড়িয়ে। রাজ্যের এই প্রান্তিক মানুষগুলো অবশেষে তাঁদের মাথায় পাকা ছাদ পাবেন। দুই, কোনও রাজ্য সরকার এর আগে নিজের কোষাগার থেকে এত বড় প্রকল্পের ঝুঁকি নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা খাতে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ অর্থ দেয়। রাজ্য দেয় ৪০ শতাংশ। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকার যেহেতু আবাস যোজনা খাতে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ২০২২ সাল থেকে বন্ধ করে রেখেছে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থির করেছেন, এই খাতে ১০০ শতাংশ টাকাই রাজ্য দেবে।
আগে হিসাব করা হয়েছিল, ১১ লক্ষ ৩২ হাজার পরিবারকে এই খাতে টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু এখন এত বেশি আবেদন জমা পড়েছে যে সংখ্যাটা বাড়িয়ে প্রায় ১২ লক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কীভাবে এই টাকা দেওয়া হবে?
সোমবার বিকেলে অর্থ দফতর সূত্রে বলা হয়েছে, এই টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। প্রথম কিস্তিতে দেওয়া হবে ৬০ হাজার টাকা। পরের কিস্তিতে দেওয়া হবে ৪০ হাজার টাকা। আর শেষ কিস্তিতে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রতি পরিবার পিছু ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
আবাস যোজনা খাতে রাজ্যকে ৪০ শতাংশ খরচ বহন করতে হলেও, সেই টাকায় তৈরি বাড়ির উপর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ফলক লাগাতে হয়। এবার যেহেতু রাজ্যই পুরো টাকা দিচ্ছে তাই, প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলার বাড়ি’। মনে করা হচ্ছে, গড়ে ওঠা বাড়ির উপর ‘বাংলার বাড়ি’ ফলক লাগানো বাধ্যতামূলক করতে পারে নবান্ন।
একদিক থেকে এটা যেমন বড় খবর, তেমনই বড় চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে সরকার। কারণ এই টাকার সুষ্ঠুবন্টন, সে ব্যাপারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, নিচুতলায় এক শ্রেণির উপদ্রব বন্ধ করা—এগুলোর উপরেও নজর রাখতে হবে।