ডিজি পীযূষ পাণ্ডে থেকে শুরু করে কলকাতার সিপি সুপ্রতিম সরকারের বদলি নিয়েও সরব হন নেত্রী। তাঁর দাবি, বেছে বেছে তাঁদেরই সরানো হচ্ছে যারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 16 March 2026 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা হয়ে গেল। তার পরদিন অর্থাৎ সোমবার রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার কলেজ স্কোয়্যার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত এই মিছিলে নেত্রীর আক্রমণ শানিয়েছেন মিলিয়ে মিশিয়ে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের তড়িঘড়ি বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি-কে (BJP) কার্যত তুলোধনা করেছেন তিনি।
‘গুপ্ত তাণ্ডব’ ও ‘বাঙালি বিরোধী’ তোপ
রবিবার রাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক পুলিশ কর্তার বদলি নিয়ে এদিন রণংদেহি মেজাজে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ত তাণ্ডব চলছে। চিফ সেক্রেটারি একজন বাঙালি মহিলা, আপনারা কি অ্যান্টি-উইম্যান? নিয়ম ছিল রাজ্য সরকারের থেকে নাম চাওয়া হবে, আমরা তিনটে নাম পাঠাতাম। কিন্তু এখন সব সুয়োমোটো! এ যেন মগের মুলুক, যেন জমিদারি!” প্রধানমন্ত্রীর ‘চুন চুনকে মারেঙ্গে’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মমতার পাল্টা প্রশ্ন, “আপনার মুখে এ সব শোভা পায় না। দেশকে আপনি কী করে রক্ষা করবেন?”
ডিজি পীযূষ পাণ্ডে থেকে শুরু করে কলকাতার সিপি সুপ্রতিম সরকারের বদলি নিয়েও সরব হন নেত্রী। তাঁর দাবি, বেছে বেছে তাঁদেরই সরানো হচ্ছে যারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে না। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি, “যাঁকেই পাঠান, তাঁরা মানুষের হয়েই কাজ করবেন। সব চেঞ্জ করে দিন, তার পরেও বাংলার সরকার বদলাবে না, লিখে নিন।”
গ্যাসের দাম ও কৃত্রিম সঙ্কট
এদিনের মিছিলের মূল ইস্যু ছিল রান্নার গ্যাসের দাম। মমতা স্পষ্ট জানান, এই কর্মসূচি নির্বাচনের আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র কৃত্রিমভাবে গ্যাসের সঙ্কট তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আমি গ্যাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, দেশে গ্যাসের ঘাটতি নেই। আসলে সার্ভার বন্ধ রেখে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে। ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই, মানুষকে আগে গ্যাস দিন।” প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের পাবলিসিটির খরচ কমিয়ে গ্যাসের দাম কমানোর পরামর্শও দেন তিনি।
শুভেন্দু ও দিলীপ ঘোষকে কড়া আক্রমণ
নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিঁধে মমতা বলেন, “নামের প্রথম অক্ষর ‘শু’ আর শেষে ‘ল’। টাইটেলটা ‘বানচাল’। অনেক খেয়েছো, এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে তৃণমূলকে চোর বলছো? তোমরা তো ডাকাতদের সর্দার।” অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের নাম না করে তাঁর কালীঘাটের বাড়ি আক্রমণের হুঁশিয়ারির জবাবে মমতার চ্যালেঞ্জ, “বুকের পাটা থাকলে দেখা! সব ক’টাকে লড়ে নেব। আমরা ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না, ঘাসের জন্ম দিই।”
‘খেলা হবে, বিজেপিকে ছক্কা মারুন’
এদিন ফের ‘খেলা হবে’ স্লোগান তুলে কর্মীদের চাঙ্গা করেন মমতা। তিনি বলেন, “এ বার আরও খেলা হবে। বিজেপিকে ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে। তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন হবেই।” একইসঙ্গে তিনি ভোটার তালিকা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, যাঁদের নাম কাটা যাবে তাঁদের জন্য ট্রাইব্যুনালে লড়াই করবেন আইনজীবীরা।
বহিরাগত তত্ত্ব ও এনআরসি আশঙ্কা
উত্তরবঙ্গ থেকে বাঙালিদের বিতাড়িত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে মমতা ফের মনে করিয়ে দেন, এই লড়াই বাংলা থেকে কাউকে তাড়াতে না দেওয়ার লড়াই। পরিযায়ী শ্রমিকদের মেধা নিয়েও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে কটাক্ষ করেন তিনি। পরিশেষে তাঁর বার্তা, “আবার দেখা হবে, নবান্নেই দেখা হবে। বিহার বা হরিয়ানা থেকে লোক এনে যেন ভোট করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখুন।”