ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে মামলা মাদ্রাজ হাইকোর্টে, খারিজ করে বিচারপতি বললেন, 'নীতিশিক্ষা দেওয়া আদালতের কাজ নয়'
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি শিশুর দেহ পুড়ছে। তিন জন ব্যক্তি চোখ বন্ধ করে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে। নোটের বান্ডিল দিয়ে তারা গোপনাঙ্গ ঢেকে রেখেছে। ওই তিন ব্যক্তির পাশে লেখা মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার। ফেসবুকে এমনই একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রক
শেষ আপডেট: 8 June 2021 04:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি শিশুর দেহ পুড়ছে। তিন জন ব্যক্তি চোখ বন্ধ করে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে। নোটের বান্ডিল দিয়ে তারা গোপনাঙ্গ ঢেকে রেখেছে। ওই তিন ব্যক্তির পাশে লেখা মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার। ফেসবুকে এমনই একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেন তামিলনাড়ুর ব্যঙ্গচিত্র শিল্পী বালামুরুগান ওরফে বালা। এই নিয়েই ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল মাদ্রাজ হাইকোর্টে। সেই মামলা খারিজ করে আদালত জানিয়ে দিল, সমাজকে নীতিশিক্ষা দেওয়া আদালতের কাজ নয়।
এই ঘটনার সূত্রপাত অনেক দিন আগে।
২০১৭ সালে তামিলনাড়ুর এক পরিবারের চার সদস্য গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। তিরুনেলভেলির জেলাশাসকের দফতরের সামনেই আত্মাহুতি দেন তাঁরা সর্বসমক্ষে। তাঁদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। অভিযোগ, মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত সুদ দিতে পারেনি তারা। তার জেরে মহাজন অত্যাচার করতে শুরু করে। তা সহ্য করতে না পেরেই ওই পরিবারের সদস্যেরা পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তাঁদের কথায় কান দেয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেশ এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হন তাঁরা।
এই নিয়েই ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন শিল্পী। সমাজের, আইনেরস প্রশাসনের নগ্নতা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। বলতে চেয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ কমিশনার, জেলাশাসক-- সকলেই নির্লজ্জের মতো দেখেছেন শিশুর মৃত্যু। এই ছবি নিয়েই আঁতে ঘা লাগে প্রশাসনের।

এর পরেই সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক পুলিশে অভিযোগ করেন। রুজু হয় মামলা। বালামুরুগানকে তাঁর চেন্নাইয়ের বাড়ি থেকে ধরা হয়।
কিন্তু শুনানিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, ব্যঙ্গচিত্রকে সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করলে সেই ব্যঙ্গচিত্রের আর ‘প্রাণ’ থাকে না। আর এক জন শিল্পীর অধিকার আছে নিজেকে প্রকাশ করার। আদালতের কাজ নয় সমাজকে নীতিশিক্ষা দেওয়া। এর পরেই জামিন পান ওই শিল্পী।