
রণক্ষেত্র যুবভারতী।
শেষ আপডেট: 18 August 2024 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান সমর্থকদের যুগ্ম মিছিলে সমর্থকদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। রীতিমতো রণক্ষেত্র পরিস্থিতি হয় যুবভারতী প্রাঙ্গণে। বহু সমর্থককে জোর করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। মিছিলকারীরা চিৎকার করে অভিযোগ করতে থাকেন, কোনও প্ররোচনা ছাড়া, কোনও অশান্তি ছাড় পুলিশ রীতিমতো আক্রমণ করেছে তাঁদের উপর। কোনও রাজনৈতিক স্লোগানও ওঠেনি বলে দাবি তাঁদের। তার পরেও তাঁদের লাঠি মেরে তাড়ানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।
বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা জানিয়েছেন, ম্যাচ বাতিলের পরে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন। স্লোগান তুলেছিলেন 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস'। জানা গেছে, এর পরে পুলিশ তাঁদের চলে যেতে বলে। সমর্থকরা জানান, তাঁরা কোনও অশান্তি করছেন না। রাস্তা ছাড়বেন না। এর পরেই ছত্রভঙ্গ করতে তাঁদের উপর লাঠি চালানো হয় বলে অভিযোগ। মারধরের মুখে আহত হন মহিলা সমর্থকরাও। প্রিজন ভ্যানে দুই দলের সমর্থকদেরই তোলা হয়।
কল্যাণ চৌবেকে দেখা যায় প্রতিবাদ করতে। তিনি পিজন ভ্যানের দিকে ছুটে যান সমর্থকদের বার করে আনতে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। যুবভারতীর পাশের রাস্তা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের নিয়ে যাওয়া হয় উল্টোডাঙার দিকে।
আজ, রবিবার ডুরান্ড কাপের ডার্বি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। এই মরশুমে প্রথমবার ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের দল খেলতে নামত। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে সেই ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। আরজি কর কাণ্ডের প্রভাব সারা রাজ্যেই পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ম্যাচ হলে মাঠে নানা বিক্ষোভ হতে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দলই জানিয়ে দেয়, তাদের সমর্থকরা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে জমায়েত করবে, মিছিল করবে আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে। এই নিয়ে কাল থেকেই চলছিল প্রস্তুতি। চিরদিনের প্রতিপক্ষ দুই দল একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটবে-- এই নিয়ে প্রভূত উত্তেজনা ছিল সব মহলে। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে আসে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবও।
এর পরে জমায়েতের কিছু আগেই যুবভারতীর সামনে জমায়েত করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয় বিধাননগর কমিশনারেট। তারা বলে, বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কোনও জমায়েত বা মিছিল চলবে না সেখানে। যুবভারতী চত্বরে জারি করা হয় ১৬৩ ধারা। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকা।
এর পরেও সমর্থকদের জমায়েত হয় চত্বরে। তাঁদের অবশ্য দাবি, নিয়ম মেনেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে ২০০ মিটার দূরে মিছিল করছিলেন তাঁরা। তার পরেও অভিযোগ, পুলিশ আক্রমণ করে ভিড়ের উপর।