ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 March 2025 01:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভা ঘিরে শনিবার অশান্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। মূলত, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এদিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) ঘিরে বামপন্থী পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে মুহূর্তে অশান্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। পাল্টা আসরে নেমে ঘটনার আঁচ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় তৃণমূলপন্থী পড়ুয়ারাও। দুই সংগঠনের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা শুরু হলে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির নীচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ইন্দ্রানুজ রায়।
এদিন হাসপাতালে (Hospoital) শুয়েই ভয়াবহ ঘটনার কথা জানালেন তিনি। এক ভিডিও বার্তায় (Video Message) তিনি জানিয়েছেন, 'এদিন শিক্ষামন্ত্রী প্রথমে পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল পন্থীরা আচমকাই ধাক্কাধাক্কি ও মারপিট শুরু করে এবং শিক্ষা মন্ত্রীকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর জোর করে শিক্ষামন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা হলে আমরা গাড়ির সামনে দাঁড়াই। শিক্ষামন্ত্রীকে বারবার কথা বলার আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু গাড়ি গতি বাড়াতেই ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যাই।' যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
ইন্দ্রানুজের আরও অভিযোগ, 'আমরা গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলেও সেটিকে থামান যায়নি। উল্টে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর গাড়ির চাকার নীচে যাতে মাথা না যায় সেকারণে ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম। এরপর বাম চোখ ও বাম পায়ের উপর দিয়ে চলে যায় গাড়ি।'
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির প্রথম বর্ষের ছাত্র ইন্দ্রানুজ। আপাতত কেপিসিতে তাঁকে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ বলে নিজেই জানিয়েছেন তিনি। ইন্দ্রানুজের সহপাঠীদের দাবি, তাঁর মাথার এক পাশ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
যদিও পড়ুয়ার অভিযোগকে পাত্তাই দেননি অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র। গোটা ঘটনায় আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। এক অডিও বার্তায় ওমপ্রকাশ বলেন, ‘আমরা ৩৬ জন বর্তমান ও প্রাক্তন উপাচার্য আমন্ত্রিত ছিলাম। ওই সভায় বারবার করে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। কিছু ছাত্রছাত্রীরা সভামঞ্চের দিকে ধাওয়া করছিল। বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা হচ্ছিল। সভা শেষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সামনেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল। অসম্মানজনক কথা বলা হয়েছিল ওঁর প্রতি। ওঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। উনি ধৈর্য দেখিয়েছেন।’
তাঁর আরও অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার পরে বাকি অধ্যাপকদের উপর হামলা করা হয়। তিনি জানান, 'আমায় আক্রমণ করা হয়েছিল, নিগ্রহ করা হয়েছিল। সামান্য চোটও পেয়েছি। আমাকে বিশেষ করে টার্গেট করেছিল কিছু পড়ুয়া। আজকের আক্রমণের নিন্দা জানাই।’
তবে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, 'যেই ছাত্র আহত হয়ে থাকুক আমার তার জন্য সমবেদনা রয়েছে। আমাদের পক্ষে থাক। আমাদের বিপক্ষে থাক আমার তার জন্য সমবেদনা আছে। কিন্তু আজকে এই নৈরাজ্য সৃষ্টি না করলেই ভাল হত।'' এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এসএফআই।
যদিও ব্রাত্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিশৃঙ্খলা থিতিয়ে পড়েনি। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তৃণমূল প্রভাবিত কর্মচারী সংগঠনের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে যাদবপুর থানার সামনেই শুরু হয় বিক্ষোভ।