মেসির কলকাতা সফরে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে দর্শকরা। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

যুবভারতীতে তদন্ত কমিটি
শেষ আপডেট: 14 December 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেসির কলকাতা সফরে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Messi at Yuba Bharati Krirangan) এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে দর্শকরা। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রবিবার সকালেই বিচারপতি অসীম রায়ের নেতৃত্বে সেই কমিটি যুবভারতী পরিদর্শনে আসেন।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম রায়ের নেতৃত্বে এই দলে আছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (CS Manoj Panth), স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। মাঠ ঘুরে দেখছেন তাঁরা। কীভাবে, কেন বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হল তা খতিয়ে দেখা হবে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
শনিবার সকাল থেকেই ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’-র (GOAT Tour India) কলকাতা পর্ব ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে যুবভারতীতে হাজির হন মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায়। কিন্তু নিরাপত্তা বলয়, মঞ্চের অবস্থান এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ঘেরাটোপে আর্জেন্তিনীয় তারকাকে কার্যত দেখা যায়নি গ্যালারির বড় অংশ থেকে। মেসির মাঠে উপস্থিতি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের। নির্ধারিত স্টেডিয়াম ল্যাপও সম্পন্ন হয়নি।
এর পরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্যালারি থেকে মাঠে নামেন দর্শকদের একাংশ। চেয়ার, বোতল ছোড়া, ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। শেষ পর্যন্ত মেসিকে দ্রুত স্টেডিয়াম ছাড়াতে হয়।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রকাশ্যে মেসির কাছে ক্ষমা চান এবং গোটা ঘটনার জন্য ‘মিসম্যানেজমেন্ট’-কে দায়ী করেন। প্রশাসনিক স্তরে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। গতকাল সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar) স্পষ্ট জানালেন, ঘটনার দায় সম্পূর্ণভাবে ইভেন্টের আয়োজক ও ব্যবস্থাপনার। যারা টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি, সেইসমস্ত দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে (Saltlake Stadium) উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী ফুটবলার জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, শুরুতে সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। মেসি মাঠে ঢোকার সময় হাসিমুখে সবার সঙ্গে হাত মেলান, স্বচ্ছন্দে অটোগ্রাফ দেন। তাঁর আচরণে কোনও অস্বস্তির ছাপ ছিল না।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে যখন একসঙ্গে অনেক মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। ছবি তোলার হুড়োহুড়িতে চারদিক ভরে যায়। তাঁর কথায়, অতিরিক্ত ভিড় দেখে মেসি স্পষ্টই অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। চারপাশ থেকে মোবাইল ক্যামেরা তাক করা দেখে তাঁর মুখের ভাব বদলে যায়। ধীরে ধীরে বিরক্তি বাড়তে থাকে এবং একসময়ে গিয়ে তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে।
কলকাতার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪ ডিসেম্বর 'ফুটবলের মক্কা' বলে পরিচিত কলকাতার জন্য এক কালো দিন হিসেবে থেকে গেল বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।