
শেষ আপডেট: 14 October 2023 09:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠছিল পাঁচ মাসের বাচ্চাটা। মুখ দিয়ে অনবরত লালা ঝরছিল। কিছু খাওয়াতে পারছিলেন না বাবা-মা। কেঁদেই চলেছিল সে। স্থানীয় ডাক্তারবাবু বলেছিলেন ঠান্ডা লাগার কারণে হচ্ছে। ওষুধ দিয়েও কান্না না থামায় শেষে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে বাচ্চাটিকে নিয়ে আসেন বাবা-মা। পরীক্ষা করে ডাক্তারবাবুরা তো অবাক। এ কী সাঙ্ঘাতিক কাণ্ড ঘটেছে!
শিশুটির গলায় শ্বাসনালির ঠিক মুখের কাছে আটকে ছিল মুখ খোলা একটি সেফটিপিন। তারই খোঁচা লাগছিল গলায়। তাই যন্ত্রণায় কেঁদে উঠছিল বাচ্চাটা। এক্স রে করে সেফটিপিনের অবস্থান দেখে অপারেশন করেন কলকাতা মেডিক্যালেন ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকরা। নিরাপদে সেফটিপিনটিকে বের করে বাচ্চাটিকে বাঁচান।
ঘটনা দিন পাঁচেক আগের। বাচ্চাটির পরিবার হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা মা বলছেন, ভাইকে পাশে নিয়ে খেলছিল অন্য ভাইবোনেরা। খেলতে খেলতেই কোনওভাবে শিশুটির মুখে ঢুকে যায় মুখ খোলা প্রায় এক ইঞ্চি লম্বা একটি সেফটিপিন। বাচ্চাটি সেটি গিলে ফেলে। আর সেফটিপিনটি আটকে যায় শ্বাসনালির ঠিক আগে।
স্থানীয় এক চিকিৎসককের কাছেও নিয়ে যাওয়া হলে তিনি শিশুটির ঠান্ডা লেগেছে বলে সেই অনুযায়ী ওষুধ দেন। কিছুতেই অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বাচ্চাটিকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসেন তার বাবা-মা। জরুরি বিভাগ থেকে শিশুটিকে ইএনটি বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহ হলে গলায় এক্সরে করিয়ে দেখা যায় সেফটিপিনটি ঠিক শ্বাসনালির মুখে আটকে আছে। এবিষয়ে হাসপাতালের ইএনটি চিকিৎসক ডা. সুদীপ দাস জানান, খোলামুখ সেফটিপিনে অনেক বড় বিপদ হতে পারত। তবে যেহেতু সেটি শ্বাসনালির ভেতরে ঢোকেনি তাই বড় ক্ষতি হয়নি। করেনি।'
শুক্রবার ৪০ মিনিটের অস্ত্রোপচারে সেফটিপিন বের করে আনা হয়। অপারেশন করেন ডা. সুদীপ দাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইএনটি বিভাগের অপর দুই চিকিৎসক ডা. মৈনাক দত্ত এবং ডা. তনয়া পাঁজা।ছিলেন সার্জেন ডা. শুভ্রজ্যোতি নস্কর এবং অ্যানেসথেটিস্ট ডা. মৃদুছন্দা দাস।
সাবধানে রাখুন সন্তানকে
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, রোজকার জীবনে অসাবধানতা ও অসতর্কতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে অনেক শিশুই। পেনের ক্যাপ, ছোট খেলনা, পয়সা, চাকতি ইত্যাদি গিলে ফেলে বিপদ ঘটছে অহরহ। বাবা-মায়েরা জানতেই পারছেন না, আদরের সন্তান খেলতে গিয়ে কী ধরনের বিপদ ঘটাচ্ছে, যখন গোটা ব্যাপারটা সামনে আসছে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।
অনেক সময় দেখা যায়, বাচ্চার সর্দি-কাশি কমছেই না। শুকনো কাশি বাড়ছে। বাচ্চা কিছু গিলে খেতে পারছে না, বমি করছে। এমন চলতে থাকলে ডাক্তার দেখাতে হবে। ডাক্তারবাবু পরীক্ষা করে দেখবেন ফুসফুসে কিছু আটকে রয়েছে কিনা। ডাক্তারবাবু বলছেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে বাচ্চা কিছু একটা গিলে ফেলেছে, আর বকা খাওয়ার ভয়ে বাড়িতে জানায়নি। গলা থেকে সেই ফরেন অবজেক্ট ফুসফুসে চলে গেছে। এর পরে দেখা গেছে, বাচ্চার সর্দি কমছে না, ঘন ঘন কাশি হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধ দিয়ে ট্রিটমেন্ট করিয়েও লাভ হয়নি। তখন ব্রঙ্কোস্কোপি করে দেখা গেছে ফুসফুসে কিছু একটা আটকে রয়েছে। তাই বাবা-মায়েদের সবসময় খেয়াল রেখে চলতে হবে। বাচ্চাদের খেলনা কিনে দেওয়ার সময়েও সতর্ক থাকুন অভিভাবকরা।