
শেষ আপডেট: 4 January 2024 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রভাবশালীরা বেড দখল করে থাকায় এসএসকেএমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তা গুরুতর বিষয় বলে পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের।
অভিযোগের সত্যতা জানতে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ, এসএসকেএম হাসপাতালে কতজন এই ধরনের ভিভিআইপি রয়েছেন, যাঁরা গ্রেফতার হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে কী কী সুযোগ সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন তাও বিস্তারিত জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলাকারী রমাপ্রসাদ সরকারের অভিযোগ, 'এসএসকেএম হাসপাতালে সাধারণ মানুষ জায়গা পাচ্ছেন না। অথচ কালীঘাটের কাকু সেখানে বেড দখল করে রয়েছেন প্রায় ৪ মাস ধরে।"
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে বলেন, "এসএসকেএম হাসপাতাল দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজনের আশ্রয়স্থল হয়ে গেছে। রাজ্যের যে সব প্রভাবশালী জেলে যাচ্ছেন, যাঁদেরকেই সিবিআই ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তাঁরা এসএসকএম হাসপাতালে আশ্রয় নিচ্ছেন।'
শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এখনই কোনও মতামত দেবে না। তবে এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে এটা খুব গুরুতর বিষয়। এরপরই এ ব্যাপারে এসএসকেএম হাসপাতালের ডিরেক্টরের কাছে রিপোর্ট তলব করেন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ।
এদিন আদালতে ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, "বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশে বুধবার সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে জোকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁর ভয়েস স্যাম্পেল গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু তাঁকে ফের এসএসকেএম হাসপাতালে ফেরত আনা হয়েছে।"
প্রধান বিচারপতি বলেন, "জেল হাসপাতালে যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে যেকোনও বন্দিকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতেই পারে। তিনি সুস্থ হলে ফের তাঁকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।" ইডির আইনজীবী দাবি করেন, "সুজয়কৃষ্ণ অত্যন্ত প্রভাবশালী। সেই জন্য সে এসএসকএম হাসপাতালের মত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এতদিন থাকার সুযোগ পাচ্ছে।"
যা শুনে বিস্মিত প্রধান বিচারপতিকে বলতে শোনা যায়, "এটা তো হতে পারে না। সাধারণ মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাবে না আর প্রভাবশালীরা বেড দখল করে থাকবে।" এরপরই এসএসকেএম হাসপাতালে বেড দখল করে থাকা প্রভাবশালীদের বিস্তারিত তালিকা চেয়ে পাঠান তিনি। আগামী ২৪ জানুয়ারি মামলার শুনানি হবে।