যাত্রীদের একজন জানান, 'আমরা গাড়ির ভেতরে কয়েক মিনিট ধরেই পোড়া রাবারের মতো কিছু একটার গন্ধ পাচ্ছিলাম। ভাবলাম, হয়তো বাইরের কোনও দোকান বা রাস্তার গাড়ি থেকে আসছে গন্ধটা।'

চলন্ত গাড়িতে আগুন
শেষ আপডেট: 29 September 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষষ্ঠীর দুপুর। সমগ্র কলকাতা তখন মেতে উঠেছে দুর্গা (DURGAPUJA 2025) আগমনের আনন্দে। ঢাকের আওয়াজ, ধুনুচির ধোঁয়া আর ‘জয় মা দুর্গা’ ধ্বনিতে ভরে উঠেছে শহরের রাস্তাঘাট। ঠিক তখনই এক উৎসবমুখর মুহূর্তে ঘটে যায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রবিবার দুপুরে ভিড়ে ঠাসা ভিআইপি রোডে, শ্রীভূমির কাছে, একটি চলন্ত গাড়িতে হঠাৎ আগুন ধরে যায় (Car catches fire near Sreebhumi)।
ঘটনাটি ঘটেছে দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ। ভাড়ায় নেওয়া একটি সাদা এসি গাড়িতে তিনজন যাত্রী- দুই তরুণী ও একজন পুরুষ লেকটাউন (Lake Town) থেকে বাঙুরের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই গাড়ির এসি ইউনিট থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। যাত্রীদের একজন জানান, 'আমরা গাড়ির ভেতরে কয়েক মিনিট ধরেই পোড়া রাবারের মতো কিছু একটার গন্ধ পাচ্ছিলাম। ভাবলাম, হয়তো বাইরের কোনও দোকান বা রাস্তার গাড়ি থেকে আসছে গন্ধটা।'
যাত্রীদের ভুল ভাঙে যখন ঘটনাটি ভয়াবহ রূপ নেয়। গাড়ির ড্যাশবোর্ডের ফাঁক দিয়ে হালকা ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়, আর এরপরই দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে গাড়িটি। তখনই গাড়ির চালক-সহ চারজন তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে যান। তাঁদের ঝটপট সিদ্ধান্ত এবং তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়াই এ যাত্রায় প্রাণ বাঁচিয়ে দেয়। প্যান্ডেলমুখী সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁদের উদ্ধার করতে সাহায্য করেন।
শ্রীভূমি প্যান্ডেলের পাশে থাকা একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, 'এক মুহূর্তে দেখছি লোকজন হাসছে, সেলফি তুলছে। তারপরেই চিৎকার, ছুটোছুটি, গাড়ি যেন হঠাৎ আগুনের গোলা হয়ে উঠল।' ধীরে ধীরে ওই অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো প্যান্ডেলের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। তবে স্থানীয়রাই তৎক্ষণাৎ রাস্তা ফাঁকা করে আগুন নেভাতে এগিয়ে যান। পাশে থাকা গাড়িগুলিকেও দ্রুত সড়িয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে দমকল গিয়ে পৌঁছায়। ঢাকের আওয়াজের মাঝখানে ফায়ার ইঞ্জিনের সাইরেন যেন মুহূর্তেই সকলকে বাস্তবের মুখোমুখি করে দেয়। দমকলকর্মীদের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নেভানো সম্ভব হয়।
আগুন লাগা গাড়িটি একটি স্থানীয় রেন্টাল কোম্পানির বলে জানা গেছে। পুলিশ ও দমকল মিলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন খতিয়ে দেখে এবং গাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। তরুণীদের একজন, পাশে দাঁড়িয়ে পুড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি তুলতে তুলতে বলেন, 'মনে হচ্ছিল উৎসবের আনন্দেই কাটবে দিনটা। কিন্তু এই ঘটনার পর সব বদলে গেল। তবে আমরা বেঁচে গেছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।'
তাঁদের সাথে থাকা পুজোর প্রসাদের ব্যাগটাই একমাত্র উদ্ধার করতে পেরেছিলেন যাত্রীরা। পরে দুর্ঘটনার আতঙ্ক ভুলে তাঁরা আবার কাছের একটি প্যান্ডেলে গিয়ে দুর্গা দর্শনে যোগ দেন, তাঁদের গল্প তখন চারপাশে ঘুরছে অলৌকিক বাঁচার গল্প হিসেবে। ভিড়ের মধ্যে অনেকেই তাঁদের চা খাওয়ান, আশ্বস্ত করেন, নিজেরা শোনান তাঁদের জীবনের অনুরূপ অভিজ্ঞতা।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ-
দমকলের এক কর্মী জানিয়েছেন, 'গাড়িতে অতিরিক্ত চাপ, দিনের পর দিন ব্যবহার, আর গরম-আর্দ্র পরিবেশ, এসব মিলিয়েই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই রেন্টাল কোম্পানিগুলিকে আরও কড়া নিয়মে গাড়ি পরীক্ষা করতে হবে।'