বিজয় দিবসের ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের উদ্যোগে কলকাতার বিজয় দুর্গের মঙ্গল পাণ্ডে মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়ায় অনুষ্ঠিত হল এক বর্ণাঢ্য মিলিটারি ট্যাটু। সোমবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত এই অনুষ্ঠানে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের ঢল নামে।

বিজয় দিবস ২০২৫
শেষ আপডেট: 15 December 2025 21:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজয় দিবসের ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের উদ্যোগে কলকাতার বিজয় দুর্গের মঙ্গল পাণ্ডে মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়ায় অনুষ্ঠিত হল এক বর্ণাঢ্য মিলিটারি ট্যাটু। সোমবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত এই অনুষ্ঠানে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের ঢল নামে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিজোরামের রাজ্যপাল জেনারেল (ডা.) ভি কে সিং (অবসরপ্রাপ্ত) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া, আবাসন ও বিদ্যুৎ দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের জিওসি-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দ্র তিওয়ারি-সহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, প্রশাসনিক কর্তা ও বিশিষ্ট অতিথিরা।

সেনাবাহিনীর কমব্যাট হেলিকপ্টারের নজরকাড়া ফ্লাই-পাস্টের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সেনা ঘোড়া আরোহীদের টেন্ট পেগিং, ভারতীয় সেনা বিমানচালকদের রোমাঞ্চকর কমব্যাট ম্যানুভার, মাইক্রোলাইট এয়ারক্রাফটের প্রদর্শনী, সোয়ার্ম ড্রোন ও রোবট মিউলের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির শক্তি ও দক্ষতা তুলে ধরা হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ক্যালারি পায়াট্টু, ভাংড়া, গটকা ও জালারি ফাটকের মতো ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট ও নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও সেনাবাহিনীর ব্যান্ড আয়োজিত মার্শাল মিউজিক অনুষ্ঠান এই মহড়ায় আলাদা মাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্র, সরঞ্জাম ও ড্রোনের প্রদর্শনী সাধারণ মানুষের কাছে ভারতীয় সেনার অত্যাধুনিক ক্ষমতাকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেনারেল ভি কে সিং ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন করেন। কীভাবে পূর্ব পাকিস্তানে মানুষ সেনার নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, সেই কথা তুলে ধরেন। ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণ ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের ঐতিহাসিক ঘটনাও বক্তব্যে উঠে আসে। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র এক দিনের উদযাপন নয়, বরং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব, ত্যাগ ও অদম্য মনোবলের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামরিক উৎকর্ষের মেলবন্ধনে বিজয় দিবসের চেতনাকে মানুষের হৃদয়ে আরও একবার দৃঢ়ভাবে তুলে ধরল এই আয়োজন।