দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্ক আর শুধু মুখে আটকে রইল না। সরাসরি ছড়িয়ে পড়ল সারা শরীরে। যুক্তিজাল নয়, তর্কের মীমাংসা করার জন্য দুই তার্কিক ভরসা রাখলেন শারীরিক শক্তির ওপর। জড়িয়ে পড়লেন মল্লযুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্থানের একটি নিউজ চ্যানেলের বিতর্ক অনুষ্ঠানে।
পাকিস্তানের একটি নিউজ চ্যানেল তাঁদের নিয়মিত লাইভ শো 'নিউজ লাইন উইথ আফতাব মুঘেরি'তে আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল পাকিস্তানের শাসকদল তেহেরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই)– এর নেতা মাসরুর আলি সিয়াল ও করাচি প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ইমতিয়াজ খান কে। আলোচনা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কিছুক্ষণের মধ্যেই। এমন সময় হঠাৎই দেখা যায় মাসরুর আলি সিয়াল পাশেই বসা ইমতিয়াজ খান–কে আঙুল তুলে শাসানির ভঙ্গিতে বলছেন, 'আমি এই জিনিস কখনও বরদাস্ত করি না।' উত্তরে প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্টও চিৎকার করে কিছু একটা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে পিটিআই নেতা চেয়ার ছেড়ে চড়াও হন প্রতিপক্ষের ওপর।
https://twitter.com/nailainayat/status/1143210734098309127
ইমতিয়াজ খানকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া এবং তার পরমুহূর্তে ইমতিয়াজ খানের উঠে পড়ে মাসরুর আলি সিয়াল কে জাপটে ধরা পর্যন্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ে কিন্তু মূল মারামারিটি হয় ক্যামেরার ফোকাসের বাইরে। সঞ্চালক একপাশে সরে দাঁড়ালেও স্টুডিওয় থাকা অন্যরা ছুটে আসে এবং দু'পক্ষকেই নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে। পরে দুজনেই আবার এসে ক্যামেরার মুখোমুখি হলেও তাঁদের এমন 'যুক্তির প্রতি আস্থাশীল' বিতর্কের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে।
টিভি'র লাইভ শো চলাকালীন রাজনৈতিক নেতাদের এমন আচরণ অস্বাভাবিক হলেও অভিনব কিছু নয়। ইওরোপ বা আমেরিকায় এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। আমাদের দেশেও কয়েকদিন আগে দুই রাজনৈতিক নেতা তর্ক করতে করতে মেজাজ হারিয়ে জল ছোড়াছুড়ি করেছিলেন। শেষে গ্লাস ছোড়া, গ্লাস ভাঙা সবই ঘটেছিল ক্যামেরার সামনে। এইসব ঘটনায় রাজনৈতিক বা সামাজিক ভাবে যাঁরা সুপ্রতিষ্ঠিত, তাঁদের ভাবমূর্তি কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেটি গবেষণার বিষয় হলেও টিভি অনুষ্ঠানটির টিআরপি যে একলাফে বেড়ে যায় সে বিষয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই।