
গ্রাফিক্স, দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 22:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরা কাণ্ডে (Tangra case) দে পরিবারের জখম ছোট ভাই প্রসূন ও তাঁর ভাইপো প্রতীপ দে'কে সোমবার রাতে রুবির বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হল। এর আগে গত শনিবার এখান থেকে ডিসচার্জ করা হয়েছিল বড়ভাই প্রণয়কে। এনআরএস হাসপাতালে অর্থপেডিক বিভাগে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে প্রণয়কে। এদিন মুক্তির পর সেখানেই নিয়ে আশা হয় ছোট ভাই প্রসূন ও তাঁর ভাইপো প্রতীপ দে'কে।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রণয় আগের থেকে কিছুটা সুস্থ। ইতিমধ্যে খুন কাণ্ডে পুলিশের কাছে বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছেন প্রতীপ। এবার ছোট ভাই প্রসূন সুস্থ হয়ে উঠলে রহস্যের উন্মোচনে তিনজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে।পুরো ঘটনা পুনর্গঠনের জন্য তাদের ট্যাংরার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হতে পারে।
পুলিশকে কী জানিয়েছে ট্যাংরার দে পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের একমাত্র জীবিত কিশোর প্রতীপ দে?
পুলিশ সূত্রের দাবি, কিশোর প্রতীপ দাবি করেছে, তার মা, কাকিমা এবং দিদিকে খুন করেছে কাকা প্রসূন দে। এর আগে দাদা প্রণয় দেও একই দাবি করেছিল।
প্রতীপ পুলিশকে জানিয়েছে, ট্যাংরার দে পরিবারের দুই বধূ রোমি দে ও সুদেষ্ণা দে এবং ১৪ বছরের কিশোরী প্রিয়ম্বদাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে প্রসূন দে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পর প্রণয় ও প্রসূন তাকে নিয়ে বের হয়। বুধবার ভোরে বাইপাসের ধারে তাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে প্রতীপের বয়ানেও একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় প্রণয়েরও ভূমিকা থাকতে পারে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রিয়ম্বদার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দেখে মনে হচ্ছে, তাকে জোর করে ঘুমের ওষুধ মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছিল। কিশোর প্রতীপও দাবি করেছে, সে কিছুতেই পায়েস খেতে চাইছিল না, কারণ সে বাবা-কাকার পরিকল্পনার কথা জেনে গিয়েছিল। এরপর তাকে মারধর করে জোর করে খাওয়ানো হয়।
ময়নাতদন্ত বলছে, রোমি এবং সুদেষ্ণার মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে। তদন্তকারীদের মতে, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের হাতের শিরা ও গলার নলি কেটে দেওয়া হয়।