দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে জানা যায়, মধ্যপ্রদেশের এক প্রাক্তন কংগ্রেসী মন্ত্রী মহিলাদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এবার আরও এক কংগ্রেসী নেতাকে ভিডিও ক্লিপে দেখা গেল, প্রকাশ্যে মহিলা অফিসারকে হুমকি দিচ্ছেন। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে, কংগ্রেস বিধায়ক হর্ষ বিজয় গহলৌত সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট কামিনী ঠাকুর বলছেন, "আপনি মহিলা। আপনি যদি পুরুষ হতেন, আপনার কলার ধরে মেমো নিতে বাধ্য করতাম।"
গত রবিবার মধ্যপ্রদেশের রতলম জেলার সাইলানা শহরে কংগ্রেস ট্র্যাক্টর মিছিল বার করে। দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থনে ওই মিছিল বার করা হয়েছিল। মিছিলের পরে বিধায়কের নেতৃত্বে কিছু লোক এসডিএমের অফিসে যায়। তখনই বিধায়ক মহিলা অফিসারকে হুমকি দেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রাক্তন মন্ত্রী সজ্জন সিং বর্মা বলেন, "মেয়েরা তো ১৫ বছর বয়সেই সন্তানের জন্ম দিতে পারে। তাদের বিবাহের বয়স ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হচ্ছে কেন?" তার আগে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছিলেন, মেয়েদের বিবাহের ন্যূনতম বয়স বাড়ানো নিয়ে জাতীয় বিতর্ক হোক। সজ্জন সিং বর্মা ওই মন্তব্য করার পরে বিজেপি দাবি করে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।
মধ্যপ্রদেশে মহিলাদের ওপরে ঘটে চলা অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য ১৪ জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই সজ্জন শর্মা এই মন্তব্য করেন।
গত ৪ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের উমরিয়া জেলায় ১৩ বছরের ওই কিশোরীকে অপহরণ করে এক যুবক। সে ওই কিশোরীর পরিচিত ছিল। তারপরে যুবক ও তার আরও ছয় বন্ধু মিলে দু’দিন ধরে বারবার তাকে ধর্ষণ করে। তারপর ৫ জানুয়ারি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কাউকে বললে তাকে খুন করা হবে বলে ভয় দেখায় অভিযুক্তরা।
এখানেই শেষ নয়, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় ছ’দিন পরে। যে সাত জন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিল তাদের মধ্যে তিনজন ১১ জানুয়ারি ফের ওই কিশোরীকে অপহরণ করে। তারপর তাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তিনজন মিলে ধর্ষণ করে।
নাবালিকার কপালে যন্ত্রণার এখানেই শেষ ছিল না। বাড়ি ফেরার পথে দু’জন ট্রাক ড্রাইভার মিলে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। তারপরে কোনও রকমে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসে ওই নাবালিকা।
শুক্রবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। তার বয়ানের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। যে সাতজন তাকে প্রথমে ধর্ষণ করেছিল তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুই ট্রাক ড্রাইভারের খোঁজ চলছে। আশপাশের থানায় খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এরমধ্যেই ৯ জানুয়ারি সিধি জেলায় ৪৮ বছরের এক মহিলাকে তাঁর বাড়িতে এক ব্যক্তি ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এই কাজে চারজন তাকে সাহায্য করে। মূল অভিযুক্ত ধর্ষণের পরে মহিলার যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পাঁচজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
১১ জানুয়ারি খান্ডোয়া জেলায় এক ১৩ বছরের নাবালিকাকে তার প্রতিবেশী অপহরণ করে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। তারপর তাকে খুন করা হয়।
একই দিনে উজ্জয়িনী জেলায় পরকীয়ায় অভিযোগ তুলে এক মহিলাকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর মিলে মারধর করে। মহিলার নাক ও স্তন কেটে দেওয়া হয় ও যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। এই মুহূর্তে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।