দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ভুলে লোকসভা ভোটের আগে জোট বেঁধেছিলেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী ও সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ সিং যাদব। এই জোটকে সবাই বলত বুয়া-বাবুয়ার মহাগঠবন্ধন। অর্থাৎ পিসি-ভাইপোর জোট। ভোটে খারাপ ফলের পরে সেই জোটও ভেঙেছে। এরপরে মায়াবতী সোমবার অভিযোগ করলেন, অখিলেশ তাঁর সঙ্গে ন্যুনতম সৌজন্যটুকুও দেখাচ্ছেন না। একইসঙ্গে দলিত নেত্রী অখিলেশদের সঙ্গে অতীত দিনের ঝগড়াও ফের খুঁচিয়ে তুলছেন।
মায়াবতী অভিযোগ করেন, অখিলেশ ভোটের ফল বেরোনর পরে তাঁকে একবার ফোনও করেননি। এরপরেই তিনি বলেন, অখিলেশ মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় যাদব বাদে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণির বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন। মুসলিমদেরও অবহেলা করেছেন। চলতি বছরের শেষেই উত্তরপ্রদেশে কয়েকটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। বিএসপি সূত্রে খবর, সেই ভোটের দিকে লক্ষ রেখেই মায়াবতী নতুন করে আক্রমণ করছেন অখিলেশকে। কারণ তখন বিএসপিকে একলাই লড়তে হবে।
ভোটে বিপর্যয়ের পরে বিএসপির শীর্ষ নেতারা অনেকেই বলেছেন, অখিলেশের সঙ্গে জোট করতে যাওয়া ভুল হয়েছিল। তাঁদের দলের মূল ভোটার দলিতরা। তাঁদের সঙ্গে যাদবদের বহুদিনের শত্রুতা আছে। বুয়া-বাবুয়া জোটে এমনভাবে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল যাতে অনেক জায়গায় দলিত ভোটারদের সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিতে হত। কিন্তু তাঁরা সমাজবাদী প্রার্থীকে ভোট দেননি।
২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে সাফল্য পেয়েছিল পিসি-ভাইপোর জোট। অনেকে আশা করেছিলেন, এবারও তাঁর পুনরাবৃত্তি হবে। কিন্তু ৮০ টি লোকসভা আসনবিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশে বুয়া-বাবুয়া জোট পেয়েছে মাত্র ১৫ টি আসন। তাদের শত্রু বিজেপি পেয়েছে ৬২ টি। মায়াবতী পরে অখিলেশকে দোষ দিয়ে বলেছেন, তাঁর সমর্থকরা কেউ বিএসপিকে ভোট দেয়নি। কিন্তু গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফল করেছে মায়াবতীর দল। ২০১৪ সালে তারা উত্তরপ্রদেশে একটিও আসন পায়নি। এবার বিএসপি পেয়েছে ১০ টি আসন।
মায়াবতী এদিন বলেন, মহাগঠবন্ধন ভোটে হেরে যাওয়ার পর অখিলেশ আমাকে একবারও ফোন করেননি। বিএসপির সাধারণ সম্পাদক সতীশ মিশ্র তাঁকে বলেছিলেন, আপনি একবার মায়াবতীজির সঙ্গে কথা বলুন। কিন্তু তিনি সেকথায় কান দেননি। আমি তাঁর থেকে বয়সে বড়। তাই আমিই তাঁকে ফোন করলাম। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ভোটে হেরে গিয়েছেন বলে দুঃখপ্রকাশও করলাম।
দলিত নেত্রীর অভিযোগ, অখিলেশ মুসলিমদের ভোটে প্রার্থী করতে চাননি। তাঁর কথায়, আমি যখন লোকসভা ভোটের টিকিট বিতরণ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি, অখিলেশ সতীশ মিশ্রকে দিয়ে বলে পাঠালেন, মুসলিমদের যেন প্রার্থী না করি। কারণ তা হলে মেরুকরণ ঘটবে। কিন্তু আমি তাঁর কথা রাজি হইনি।
মায়াবতীর দাবি, অখিলেশের জন্যই মানুষ মহাগঠবন্ধনকে ভোট দেননি। কারণ তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যাদব বাদে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণির বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন।