
শেষ আপডেট: 20 December 2023 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: কাঁথি ও হলদিয়া মহকুমা আদালতে বহু বছর ধরে থরে থরে জমা পড়েছে বিবাহবিচ্ছেদ, খোরপোষের মামলার ফাইল। পারিবারিক কোনও বিবাদ থাকলে এলাকার মানুষ এই আদালতের দরজায় ন্যায় বিচারের আশায় কড়া নাড়েন। সম্প্রতি পারিবারিক আদালত স্থানান্তরিত করার নির্দেশ আসায় এখন বিপাকে পড়েছেন আবেদনকারীরা। আদালত স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতেই সোমবার থেকে কাঁথি ও হলদিয়া মহকুমা কোর্টে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মামলাকারী মহিলারা। তাঁরা জানিয়েছেন, ১০০ কিলোমিটার দূরে তমলুক আদালতে গিয়ে মামলা লড়ার ক্ষমতা তাঁদের অনেকেরই নেই।
জানা গিয়েছে, কাঁথি পারিবারিক আদালতে এলাকার বহু মহিলার খোরপোষের মামলা চলছে। বাড়ির কাছে হওয়ায় তাঁদের কোর্টে আসতে অসুবিধা হয় না। শুনানি থাকলে তাঁরা নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দিতে পারেন। খোরপোষের আবেদনকারী মহিলাদের দাবি, ১০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মামলা চালানোর সামর্থ তাদের নেই। তাই আদালত স্থানান্তরিত হোক সেটা তাঁরা চান না। উল্লেখ্য, হলদিয়া ও কাঁথি আদালতে প্রায় ৩০ হাজার এই ধরনের মামলা চলছে।
ইতিমধ্যে মহিলা আবেদনকারীদের আন্দোলনের জেরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে কোর্টের কাজ। ল-ক্লার্করাও চাইছেন না, যে পারিবারিক আদালত তমলুকে চলে যাক। তাঁরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে আবেদনপত্র ও আদালতের নথি সমস্ত কিছুই তমলুক সদরে তৈরি হওয়া নতুন পারিবারিক আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে বহু নথি এদিক-ওদিক হয়ে গিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, তমলুক সদরে একটি নতুন পারিবারিক আদালত তৈরি হয়েছে। সেখানে পারিবারিক মামলাগুলির শুনানি হবে। কাঁথি ও হলদিয়াতে যে আদালত ছিল, সেগুলি আর থাকবে না। ‘আচমকা’ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মামলাকারী। ল'ক্লর্করা জানিয়েছেন, একটি কোর্টে জেলার সমস্ত পারিবারিক আদালতের মামলা চালানো অসম্ভব। এতে মামলাগুলির শুনানি হতে দেরি হবে। এলাকার মানুষ ঠিক সময়ে ন্যায় বিচার পাবেন না। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত বদল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।