
শেষ আপডেট: 11 October 2021 10:35
‘করোনার সময় খুব অবসাদে ভুগেছি সকলে। বাড়ি ফেরা হয়নি। কলকাতার পুজোর কথা বার বার মনে পড়েছে। সকলে কেমন বিচ্ছিন্ন, একা হয়ে গিয়েছিলাম। দুর্গাপুজোই সেই আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছে। আবার সকলে এক হয়েছ’, সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন রাকা সরকার। তিনি জানান, পরিবার-আত্মীয় বাদে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ৩৫ জন বন্ধুও এসেছেন। সকলে কোভিড বিধি মেনেই পুজোর আচার পালন করেছেন।
কলকাতার হাওড়া ব্রিজ, দক্ষিণেশ্বর মন্দির, বেলুড় মঠ, শহিদ মিনার, রাজ ভবন প্রভৃতি জায়গার আদল দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। রাকার বাবা সৌমেন সরকার ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের অধ্যাপক। তিনি রাজভবনের আদলে মণ্ডপের গেট বানিয়েছেন। রাকার ননদও একজন ডাক্তার। তিনি ডোকরার সাজে একচালার প্রতিমা বানিয়েছেন। নিজেদের হাতেই সবটা পুজোর আয়োজন।
সরকার পরিবার জানাচ্ছে, এখানকার পুজোয় প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বহুদিন আগেই থেকেই। প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে জোগাড়ের দায়িত্ব সামলান অবাঙালিরাও। ভোগের থালাতেও তাই বাঙালি খানার রমরমা। তিন-চার দিন হেঁশেলে একদম তালাচাবি পড়ে যায়। বাঙালি স্বাদের খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি-পাঁপড়, মিষ্টি দই থাকে নিরামিষের দিনে। নবমীতে অন্য আয়োজন, বাসন্তী পোলাও, ফিশ চপ, মটন কষা, চাটনি। শেষ পাতে ভোজনরসিক বাঙালিদের কথা মাথায় রেখে মিষ্টি দই।
দেশ থেকে বহুদূরে হলে কী হবে, এই পুজোয় আনন্দ আছো ষোলোআনা। শিকড়ের গন্ধ আছে প্রস্তুতির প্রতিটি পরতে পরতে। দেশে ফেরার টান আছে। আরতির ঘণ্টার সঙ্গে তাই সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার থেকেও ভেসে আসে শিউলির গন্ধ। সেখানে কলকাতার আর মেরিল্যান্ড মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'