অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে সদ্যোজাতকে খুবলে খাচ্ছে কুকুর, আর্তনাদ বাবার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন থিয়েটারে কুকুর ঢুকে পড়েছে শুনেই আশঙ্কা হয়েছিল যুবকের। ঘণ্টাখানেক আগে সেখানেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। দৌড়ে ওটিতে ঢুকতেই হাড়হিম হয়ে যায়। মেঝেতে তখন পড়ে রয়েছে সদ্যোজাতের ক্ষতবিক্ষত দেহ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে
শেষ আপডেট: 13 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন থিয়েটারে কুকুর ঢুকে পড়েছে শুনেই আশঙ্কা হয়েছিল যুবকের। ঘণ্টাখানেক আগে সেখানেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। দৌড়ে ওটিতে ঢুকতেই হাড়হিম হয়ে যায়। মেঝেতে তখন পড়ে রয়েছে সদ্যোজাতের ক্ষতবিক্ষত দেহ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারদিক। বুক, চোখ খুবলে খাওয়া। যুবককে দেখেই দৌড়ে পালায় রাস্তার একটি কুকুর।
মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে আজ, মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের ফাররুকাবাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। আবাস বিকাশ কলোনির বাসিন্দা রবি কুমার তাঁর স্ত্রী কাঞ্চনাকে ভর্তি করেছিলেন কলোনিরই আকাশগঙ্গা নামে একটি হাসপাতালে। রবি জানিয়েছেন, স্ত্রীর প্রসবযন্ত্রণা ওঠায় ভোরে তাঁকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি। ডাক্তাররা প্রথমে নাকি জানিয়েছিলেন নর্মাল ডেলিভারি করা হবে। পরে তাঁকে জানানো হয় সিজার করা হচ্ছে স্ত্রীর। সকাল ৮টা নাগাদ ছেলের জন্ম দেন কাঞ্চনা।
‘‘আমাকে বলা হয়েছিল মা ও সন্তান দু’জনেই সুস্থ আছে। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। ছেলের মুখও দেখিনি তখন। আচমকাই নার্সরা চেঁচামেচি জুড়ে দেন কুকুর ঢুকে গেছে ওটিতে। শুনেই ছুটে গিয়ে দেখি আমার সন্তান ছিন্নভিন্ন পড়ে আছে মাটিতে,’’ বলেছেন সন্তানহারা বাবা। জানিয়েছেন, সিজারের পরে কাঞ্চনাকে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য ওয়ার্ডে। কিন্তু তাঁর সন্তানকে ফেলে রাখা হয়েছিল ওটিতেই। ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্মীদের চূড়ান্ত গাফিলতি ও অমানবিকতার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

হাসপাতালের ওটিতে কীভাবে একটা পথ কুকুর ঢুকে পড়তে পারে? প্রশ্ন তুলেছেন রবি কুমার ও পরিবারের লোকজন। অভিযোগ, চোখের সামনে এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে দেখেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডাক্তার-নার্সরাও তাঁদের সঙ্গেও দেখা করতে চাইছেন না। রবি কুমারের দাবি, ‘‘ঘটনার দায় স্বীকার করতে রাজি নন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উল্টে টাকা দিয়ে আমার মুখ বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে।’’ ঘটনার যথাযোগ্য বিচার চেয়ে পুলিশ ও জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
ঘটনায় হাসপাতালের অধিকর্তা বিজয পটেল ও অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪-এ ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই হাসপাতালের কোনও বৈধ লাইসেন্সই নেই। কীভাবে এতদিন ধরে সেখানে চিকিৎসা চলছিল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলাশাসক মানবেন্দ্র সিং বলেছেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্মীদের গাফিলতিই সামনে এসেছে। তদন্তের জন্য আলাদা কমিটি তৈরি হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। ফাররুকাবাদে এমন অনেক অবৈধ হাসপাতাল-নার্সিংহোম চলছে বলে খবর পেয়েছি আমরা। গোটা জেলা জুড়েই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।’’