ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে মাঝপথে তুলে নিয়ে যায় পরিচিত টোটো চালক।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 July 2025 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে (Minor Girl Assault) মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে রায় দিল আদালত। অভিযুক্ত টোটো চালককে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতের (Pocso Court) বিচারক রিন্টু সুর। সঙ্গে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দু’মাসের জেল। নির্যাতিতার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে মাঝপথে তুলে নিয়ে যায় পরিচিত টোটো চালক। অভিযোগ, মেয়েটিকে চকোলেটের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাইয়ে অচৈতন্য করে তিস্তা নদীর পারে ঝুপড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয় দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয় অভিযুক্ত।
এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি, নাবালিকার স্কুল ব্যাগ থেকে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট পেয়ে মেয়ের মায়ের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি সব কথা বলে দেয়। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ অভিযুক্তকে রাতেই গ্রেফতার করে।
জানা গেছে, অভিযোগের ৭ দিনের মধ্যেই চার্জশিট জমা দিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি মহিলা থানার তদন্তকারী অফিসার। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষী ছিলেন। সব পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করল।
পকসো আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি দেবাশিস দত্ত জানান, তদন্ত দ্রুত সম্পূর্ণ হওয়ায় এত কম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, তিনি গৃহকর্মীর কাজ করেন। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন। আদালতের রায়ে তিনি খুশি। তাঁর কথায়, "আইন যে এখনও আছে, সেটা বিশ্বাস হল।"