পূর্বপুরুষদের কবরে গিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি চাইলেন কংগ্রেস নেতা, নেট-দুনিয়ায় হইচই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তোলপাড় চলছে সারা দেশে। নানারকম দ্বন্দ্ব এবং আতঙ্কে আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে বিরোধিতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়েছে, 'কাগজ দেখাব না'। অনেকেই বলছেন, পূর্বপুরুষের নথিপত্র কোথায় পাব। এই আবহেই এক অভিনব মজ
শেষ আপডেট: 24 January 2020 06:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তোলপাড় চলছে সারা দেশে। নানারকম দ্বন্দ্ব এবং আতঙ্কে আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে বিরোধিতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়েছে, 'কাগজ দেখাব না'। অনেকেই বলছেন, পূর্বপুরুষের নথিপত্র কোথায় পাব। এই আবহেই এক অভিনব মজার কাণ্ড ঘটিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের এক কংগ্রেস নেতা হাসিব আহমেদ। পূর্ব পুরুষদের কবরে গিয়ে কাগজের জন্য প্রার্থনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার হাসিব আহমেদ তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে পূর্বপুরুষদের কবরস্থানে পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে তাঁদের কাছে রীতিমতো প্রার্থনা করেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের কাগজ পাওয়ার জন্য। তিনি জানান, তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যে নথি প্রয়োজন, তা তাঁর পূর্বপুরুষদের কাছেই ছিল। তাঁরা সেসব কোথায় রেখে গেছেন তিনি জানেন না। তাই একমাত্র পূর্বপুরুষরাই তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণ করার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবে। সেই কারণেই এই বিশেষ প্রার্থনা।

কংগ্রেস নেতা আরও দাবি করেন, পূর্বপুরুষরা যদি নাগরিকত্ব প্রমাণের কাগজপত্র দিতে না পারেন, তাহলে মোদী সরকারকে তিনি অনুরোধ করবেন যেন তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে এই কবর খুঁড়ে তাঁর পূর্ব পুরুষদেরও ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। কারণ তাঁর পূর্বপুরুষদের কাছেও নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনও কাগজ নেই।
কংগ্রেস নেতার এই কর্মকাণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ইতিমধ্যেই। শোনা গেছে, এই প্রথম নয়। এই কংগ্রেস নেতা এর আগেও একাধিক এইধরনের কাজকর্ম করেছেন। এর আগে রাহুল গান্ধীকে শিব হিসেবে পোস্টার তৈরি করেছিলেন হাসিব আহমেদ। সনিয়া গান্ধীকে ঝাঁসির রানি হিসেবেও একটি পোস্টারে তৈরি করেছিলেন তিনি। বারবারই মজার মোড়কে নানা ইস্যু সম্পর্কে নিজের মত জানান তিনি।
এখন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে কংগ্রেস। শুধু কংগ্রেস নয়, দেশজুড়ে সাধারণ মানুষও পথে নেমেছেন এই আইনের বিরুদ্ধে। দাবি উঠেছে, এই আইন অসাংবিধানিক ও গণতন্ত্রবিরোধী। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যে সমস্ত নথি দরকার, তা বহু মানুষেরই নেই। সেক্ষেত্রে তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করা হবে এই নয়া আইনে। ইতিমধ্যেই অসমের ১৯ লক্ষ মানুষের নাম নাগরিকপঞ্জিতে ওঠেনি নথি দেখাতে না পারার কারণে। ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে তাঁদের।